কালবৈশাখীর তান্ডব ও আকস্মিক বজ্রপাতে দেশের ছয়টি জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ রোববার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই হাওর ও খোলা মাঠে কাজ করছিলেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন।

এছাড়াও রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, নেত্রকোনায় ১ জন, হবিগঞ্জে ১ জন, কিশোরগঞ্জ ১ জন

সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ৫ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে আকস্মিক বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

রংপুরের মিঠাপুকুরে মাছ ধরার সময় এবং ময়মনসিংহে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়।

অন্যান্য জেলায় নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে হাওরে কাজ করার সময় পৃথক ঘটনায় আরও ৩ জন প্রাণ হারান।

বজ্রপাতে হতাহতদের উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। আহত অন্তত ৯ জনকে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে খোলা মাঠ বা হাওর এলাকা পরিহার করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা এবং বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই আকস্মিক বিপর্যয়ে নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। আবহাওয়া অফিস আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের কিছু এলাকায় আবারও ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।