স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর বনমালা এলাকায় একই পরিবারের দুই সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিজ ঘর থেকে ছেলের লাশ এবং বাড়ির পাশের রেললাইন থেকে বাবার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারের বড় ছেলেকে আটক করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- মো. সোহেল হোসেন (৫২) এবং তার ছেলে সাকিব হোসেন (১৮)। আটক করা হয়েছে সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহান হোসেনকে (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন। নিহত সাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরিও করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শনিবার গভীর রাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। সকালে খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে সাকিবের লাশ উদ্ধার করে। তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল এবং দুই হাতের রগ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ ধারণা করছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাড়ির পাশের বনমালা রেললাইন থেকে উদ্ধার করা হয় তার বাবা সোহেল হোসেনের লাশ। তার শরীরে ট্রেনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় বড় ছেলে সোহান পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং রাতের ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে জানান। তবে ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, 'নিজ ঘর থেকে ছেলের লাশ এবং রেললাইন থেকে বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় পরিবারের একজন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'

পুলিশ আরও জানায়, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। পুলিশ বলছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।