মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : চেতনানাশক স্প্রে করে বৃদ্ধ দম্পতিকে অজ্ঞানের পর মণিরামপুরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য, পুলিশ বলছে, এটি ডাকাতি নয়, চুরির ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মণিরামপুর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বিমল ম-লের বাড়িতে।
দুর্বৃত্তরা শিক্ষকের বাড়ির দোতলার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে চেতনানাশক স্প্রে করে ঘরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও শিক্ষকের ব্যবহৃত একটি ডিসকভার ব্রান্ডের মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা বুধবার সকালে শিক্ষক বিমল ম-ল ও তার স্ত্রী প্রতীমা ম-লকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শিক্ষক বিমল ম-ল কলারোয়া উপজেলার কামার আলী হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান। তার তিন মেয়ের মধ্যে বড় ও ছোট মেয়ে যথাক্রমে ইতালি ও কানাডা থাকেন। মেঝ মেয়ে কুষ্টিয়া শ্বশুরালয়ে থাকায় বৃদ্ধ স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের দোতলা বাড়িতে থাকেন শিক্ষক বিমল ম-ল।
বিমল ম-লের ভাই নির্মল ম-ল বলেন, মঙ্গলবার রাতের খাবার সেরে বিমল ও তার স্ত্রী নিচতলায় ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। আমাদের পরিবার নিয়মিত ভোর ৪টার সময় উঠে পূজা দেয়। বুধবার ভোররাতে বিমল না উঠায় তাকে ডাকাডাকি করি। একপর্যায় জেগে উঠে তারা দেখে ঘরের জিনিসপাতি উলটপালট, আলমারির তালা ভাঙা। এরপর দেখি দোতলার জানলার গ্রিল ও ঘরের প্রধান ফটকের তালা ভাঙা।
নির্মল ম-ল বলেন, ধারণা করছি- দুর্বৃত্তরা দোতলার জানালার গ্রিল ভেঙে চেতনানাশক স্প্রে করে বিমল ও তার স্ত্রীকে অজ্ঞানের পর ঘরে থাকা টাকা, সোনাদানা, জিনিসপাতি ও একটা মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। সকালে ওদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় দুইজনকে েেকশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘরে টাকা কতো ছিল তা বলতে না পারলেও সোনাদানা ১০-২০ ভরি হবে বলে জানা গেছে।