ঋণের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাতজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৯২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস, সোনালী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার সাবেক গোডাউন কিপার মতিয়ার রহমান, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মানিক চন্দ্র মণ্ডল, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রুহুল আমিন, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সাবেক অফিসার অজিত কুমার সরকার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস পাট কেনার জন্য সোনালী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখা থেকে ৪৯ কোটি ৬২ লাখ ১৪ হাজার ২৩৭ টাকা ঋণ নেন। পরে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পাট না কিনে ওই ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
আদালত সূত্র আরও জানায়, আত্মসাৎ করা ঋণের অর্থ সুদসহ বেড়ে ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকায় দাঁড়ায়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত সাত আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৯২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।
মামলার দুই আসামি মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মানিক চন্দ্র মণ্ডল পলাতক রয়েছেন।