বৃহত্তর কুষ্টিয়া,ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ ৪ জেলার ৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত পথের ৪০টি রুট দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক ও অস্ত্র। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৪৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। এর মধ্যে ১৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া। বাকি ২৮ কিলোমিটার 'অরক্ষিত' উন্মুক্ত। ১০০’র বেশী সিন্ডিকেট ওই সীমান্ত পথে তাদের মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। আইনশৃংখলা-রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার।
অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ছে কুষ্টিয়াসহ সীমান্তবর্তী এলাকার আনাচে-কানাচে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মাদকসেবীদের এখন আর নির্দিষ্ট কোনো স্পটে যেতে হয় না; একটি ফোন কলেই চাহিদা অনুযায়ী মাদক পৌঁছে যাচ্ছে খোদ ক্রেতার হাতে, যাকে বলা হচ্ছে মাদকের ‘হোম ডেলিভারি’। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদকের বিস্তার এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৪৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। এর মধ্যে ১৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া। বাকি ২৮ কিলোমিটার 'অরক্ষিত' উন্মুক্ত। সীমান্তের ওই এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠেনি নিরাপত্তা কিংবা সুরক্ষা বেষ্টনী। ফলে উন্মুক্ত সীমান্তের দুর্গম এলাকা দীর্ঘকাল রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। বাংলাদেশের অন্যতম সীমান্তবর্তী উপজেলা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা। ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দৌলতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নই সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে অবস্থিত।
এসব চোরাপথে মরণ নেশা এলএসডি, হোরোইন, আফিমসহ বিভিন্ন মাদক, অস্ত্র-গোলাবারুদ, সাপের বিষ, কসমেটিকস ও শাড়ি, কম্বলসহ নানা পণ্য ঢুকছে বাংলাদেশে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হচ্ছে স্বর্ণ ও রৌপ্যসহ অন্যান্য মালামাল।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, সীমান্তরক্ষীদের কঠোর নজরদারী সত্বেও থামানো যাচ্ছে না কুষ্টিয়া সেক্টরের অধীনে চোরাকারবারী। রাজনৈতিক ছত্রছায়া, জনপ্রতিনিধি, একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ, ভৌগলিকভাবে নদী পথের আধিক্য প্রভৃতি কারনে এ সেক্টরের অধীনে কুষ্টিয়া,ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ ৪ জেলার ৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা চোরাকারবারীরা একটি সুবিধাজনক রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই বিশাল সীমান্তের বেশীরভাগ উন্মুক্ত থাকায় এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারিদের জন্য উপযুক্ত রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তে পর্যাপ্ত সুরক্ষা বেষ্টনী না থাকায় চোরাকারবারিরা সহজেই এই পথ দিয়ে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ পণ্য পরিবহন করছে। এ জেলাগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিরও বেশী চোরাচালান রুট রয়েছে যেখানে ১০০’র বেশী সিন্ডিকেট রয়েছে। প্রতিদিন এসব চোরাপথে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তরি-তরকারিসহ শাড়ী, থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল/তৈরী পোশাক, কসমেটিক্স সামগ্রী, কাঠ, চা পাতা, চিনি, সার, কয়লা, মোবাইল ডিসপ্লে, চশমা, সুতা/কারেন্ট জাল, সুপারি, রসুন, পিঁয়াজ, জিরা, যানবাহন, ট্রলি, নৌকা, সিএনজি/ইজিবাইক, বাইসাইকেল আসছে।
অন্যদিকে, মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেট, ক্রিস্টাল মেথ আইস, হেরোইন, ফেনসিডিল, বিদেশী মদ, বাংলা মদ, বিয়ার, গাঁজা, বিড়ি ও সিগারেট, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ইস্কাফ সিরাপ, কোকেন, এমকেডিল/কফিডিল। বিভিন্ন প্রকার ঔষধ যেমন এ্যানগ্রো/সেনেগ্রা ও অন্যান্য ট্যাবলেট পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- পিস্তল, গান জাতীয় অস্ত্র, রাইফেল, রিভলবার, গেনেড, রকেট বো¤ব গুলি।
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন জায়গায় মিলছে মাদক। প্রকাশ্যে বিক্রির কারণে দিন দিন মাদকসেবী বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এদিকে পুলিশ বলছে, সব ধরনের মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের বিরুদ্ধে চলছে অভিযান ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। মাদকদ্রব্য এখন সর্বত্র কুষ্টিয়া শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে। এমন কোন পাড়া-মহল্লা ও গ্রাম নেই যেখানে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ নেশার উপকরণ পাওয়া যাবে না। জেলা জুড়ে এখন মাদকের উপর ভাসছে। এই সর্বনাশা মাদকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র-ছাত্রীরা আসক্ত হচ্ছে ব্যাপকহারে।
বর্তমানে মাদকাসক্তদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতি মেধাশূন্য হওয়ার চরম হুমকি দেখা দিয়েছে। বেকারসহ অন্য পেশার চেয়ে মাদকাসক্তদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ব্যাপক। অভিভাবকগণ উৎকণ্ঠিত। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো স্কুলগামী শিশুরা এই সর্বনাশা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে শিশুদের আসক্ত হওয়ার হার গ্রামাঞ্চলেই বেশি।
মাদক ব্যবসায়ী কিংবা বিক্রেতারা ভেজাল ও বিষাক্ত মাদকদ্রব্য স্বল্পমূল্যে বিক্রি করছে। ফেনসিডিলে মেথিলেটেড স্পিরিট, হেরোইনের পরিবর্তে ব্রাউন সুগার ও কুকুর মারার বিষ। ভেজাল ও বিষাক্ত মাদক আসছে সীমান্ত পথে। এই সব বিষাক্ত ও ভেজাল মাদকদ্রব্য সেবনে আসক্তদের মধ্যে মৃত্যু বেড়েছে আশংকাজনক হারে।
চোরাকারবারিদের দমন ও সীমান্তের নিরাপত্তায় দুই-তিন কিলোমিটার পরপর স্থাপিত বিওপিতে বিজিবি নিযুক্ত থাকলেও আইনের চোখ এড়িয়ে দুর্গম চোরাপথে আসছে মাদকের বড় বড় চালান, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী। অবৈধ এসব চালানের একাংশ ধরা পড়লেও থামছে না চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য। মূলত দেশের অভ্যন্তরে মাদকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ফলে মাদকের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ, প্রাগপুর, বিলগাথুয়া, জামালপুর, মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া, মুন্সীগঞ্জ, চলিস্নশপাড়া, চরপাড়া, চিলমারী, চরচিলমারী, উদয়নগর, ডিগ্রিরচরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে মাদক পাচারকারীরা গোপনে বিভিন্ন কৌশলে ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদসহ বিভিন্ন মাদক পাচার করছে। আর এসব মাদক হাত বদল হয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।
এছাড়া সীমান্তের একাংশের মানুষ চোরা কারবারকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে ঝুঁকি সত্ত্বেও বেশি আয়ের উত্স হিসেবে তারা ঝুঁকছে চোরাকারবারিতে। সীমান্তে বসবাসরত স্থানীয়রা জানান, চোরাপথে মাদক আমদানি একটি মারাত্মক অপরাধ। এছাড়া দেশ-জাতির জন্য চরম ক্ষতিকর মাদক ও অবৈধ পণ্য আমদানি বন্ধসহ চোরাকারবারিদের দমনে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন সংশ্রিষ্টরা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকার অনেকেই বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে ভারত থেকে মাদক পাচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর প্রচেষ্টায় মাদক পাচার রোধ করা কঠিন। যেহেতু ভারত থেকে মাদক আসছে, তাই সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের আন্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য এদেশে উৎপাদন হয় না. বাইরে থেকে এদেশে আসে। মাদকদ্রব্য আসার পথ বন্ধ করা হলে দেশের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য পাওয়া যাবে না। এই পথে সঠিক ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে কেবল দেশে মাদক আসা বন্ধ করা সম্ভব। যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য দেশে আসছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও র্যাব মিলে জিরোভাগও উদ্ধার করতে পারছে না। সর্বনাশা মাদক প্রতিরোধে সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সিন্ডিকেটে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা শাখার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের নাম। দৌলতপুর থানা হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরুত্ব হওয়ার কারনে আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের পাশেই রয়েছে তেকালা পুলিশ ফাঁড়ী, তবে নেই কোনো পূর্বের মতো মাদক উদ্ধার, নেই কোনো মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান,নেই কোনো মাদক মামলা।
অপরদিকে, বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ, রৌপ্য, সাপের বিষ, ইলিশ মাছ, সহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল ভারতে পাচার হচ্ছে।
সীমান্ত নিয়ে কাজ করেছেন কুষ্টিয়ার বেসরকারী সংস্থা রবীন্দ্র সংসদের নির্বাহী পরিচালক সাথী নজরুল ইসলাম জানান, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কিছু মানুষ চোরাচালানকেই প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য উচ্চ ঝুঁকি গ্রহণে প্রলুব্ধ করছে। ফলে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য ও স্থানীয় চাহিদা কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এদেরকে নানাভাবে সুরক্ষা দেয়া হয়। এই সুরক্ষাদাতারা হলেন এলাকার একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি যারা নিজেরাও চোরাচালানের সাথে জড়িত।
এছাড়াও, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আর্থিক সুবিধা ও দ্রত লাভের প্রলোভনে অনেকেই চোরাচালানে যুক্ত হচ্ছেন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্তের একাংশের মানুষ চোরা কারবারকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে ঝুঁকি সত্ত্বেও বেশি আয়ের উৎস হিসেবে তারা ঝুঁকছে চোরাকারবারিতে।
কুষ্টিয়া জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) এর নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতীয় সীমান্তে অরক্ষিত-উন্মুক্ত জায়গা দিয়েই প্রতিদিন আসছে মাদক। অথচ যে পরিমাণ বিজিবি মোতায়েন করা দরকার লোকবলের অভাবে তা সম্ভব না হওয়ায় মাদক চোরাচালান থামানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও জনপ্রতিনিধিরাও এই মাদক পাচারের সঙ্গে সংশিষ্ট থাকায় মাদক চোরাচালান থামানো যাচ্ছে না।
সুশীল সমাজের মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকার, আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জামিন প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করা জরুরী, বিশেষ করে ছিনতাই ও মাদক মামলার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং, জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের কার্যকলাপের ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনে জামিন বাতিলের প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
এছাড়া বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে হবে, যাতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের কোনো রকম সুবিধা না দেয়। মামলার তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হলে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে আস্থা তৈরি হবে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সূত্র জানায়,মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে অস্ত্র এবং যে কোন অপরাধের বিষয়ে যেখানেই তথ্য পায় সেখানে আমাদের অভিযান চালানো হয়। আমাদের অভিযান চলমান আছে। অপরাধী যেই হোক কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা।
বিজিবির তথ্যমতে, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাত্র ৫৫ পয়সায় সংগ্রহ করা এসব ট্যাবলেট দেশের অভ্যন্তরে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মাদকের এই সহজলভ্যতার কারণে সীমান্ত এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ।
সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও মাদকের স্রোত পুরোপুরি থামানো যায়নি। কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের বিশাল চালানের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার বোতল বিদেশি মদ ও ফেনসিডিল, বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, এলএসডি, আফিম, কোকেন এবং কয়েক লাখ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট।
অন্যদিকে, দৌলতপুর থানা-পুলিশ প্রথম সাত মাসে ১০৬টি মাদক মামলা দায়ের করে ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এসব অভিযানের মধ্যেই শস্যের ভেতরে ভূত থাকার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ জুলাই গড়ুরা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ৪০০ বোতল ফেনসিডিল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, "সীমান্তে মাদক প্রতিরোধে বিজিবি টহল ও জনবল বৃদ্ধি করেছে। প্রতিনিয়ত মাদক উদ্ধার হচ্ছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে থাকা মাদক উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। যৌথ অভিযানের মাধ্যমেই মাদকের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দিয়ে প্রতিদিন আসছে মাদক। বিভিন্ন আইটেমের এ মাদক ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে। জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়িয়ে পড়েছে নেশায়।
এ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মাদকসেবীদের রোধে প্রশাসনকে আরোও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ অত্র অঞ্চলের সুশীল সমাজের।