মোঃ রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের ফলে গরু ও লাঙ্গলের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত। ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও কম খরচে জমি চাষের সুযোগ থাকায় চাষিরা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি থেকে সরে আসছেন। এছাড়া, আবাদি জমি কমে যাওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কারণে লাঙ্গল-জোয়াল আর জনপ্রিয় না থাকায় পেশা ও ঐতিহ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। এর পরও আরো কিছু কারণ আছে, যান্ত্রিকীকরণ: পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর দ্রুততম সময়ে জমি চাষ সম্পন্ন করে। খরচ ও সময়: লাঙলের তুলনায় যান্ত্রিক চাষে সময় ও শ্রম কম লাগে এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো বদলে যাচ্ছে। ভূমির রূপান্তর: কৃষি জমির পরিমাণ কমে আসায় গরু পালন ও হাল চাষ কমছে। কৃষি জমিতে যান্ত্রিক চাষাবাদ বাড়াচ্ছে। যদিও গরু দিয়ে হাল চাষ পরিবেশবান্ধব এবং জমির উর্বরতা বাড়ায়, তবুও আধুনিকতার ছোঁয়ায় লাঙল-জোয়াল এখন শুধুই স্মৃতি।
আধুনিক প্রযুক্তি এখন সহজলভ্য হওয়ায় কেউ সময়, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করছে না গরুর হালে। এছাড়া গরুর দাম বৃদ্ধি হওয়ায় আগের মতো ঘরে ঘরে গরু পালনের বিষয়টিও কমে গেছে। এক সময় চাষ দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট গরু পালন করা হতো। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি সহ নানান কারণে সময়ে পথ পরিক্রমায় গেছে কৃষি কাজে গরুর ব্যবহার। যারা এখন গরুর লালন পালন করছেন তারা বাণিজ্যিকভাবে গরু পালন করছেন। গরুকে এখন আর কৃষি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না।
কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, হাল চাষের জন্য দরকার একজোড়া গরু। কাঠ আর লোহার সমন্বয়ে তৈরি লাঙল, জোয়াল, মই, গরুর মুখের লাগাম ইত্যাদি। হাল চাষেই বেশি ভালো হয় জমি। লাঙ্গলের ফলা জমির অনেক গভীর অংশ পর্যন্ত যেতে পারে বলে মাটির গঠন ভালো হয়। গরুর পায়ের ও গোবরের কারণে জমিতে কাদা বেশি হতো বলে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু মেশিনে হাল চাষে সেইসব পাওয়া যায় না।