মতলব (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং অন্তত ৪০টির বেশি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। ফলে উপজেলার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে তীব্র তাপদাহর পর হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। ঝড়ের তীব্রতায় বহু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন মতলব উত্তর জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার আবাসিক, ২০ হাজার বাণিজ্যিক এবং প্রায় ৪০০ শিল্প গ্রাহক রয়েছে। এছাড়া একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্তত ১৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উপজেলা প্রশাসন, থানা, ২টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মেরামত কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তবে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগতে পারে।
মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এম.ডি. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে। আমাদের এখানে জনবল ও সংকট রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার চেষ্টা চলছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে এবং আশা করছি আজকে রাতের মধ্যে অনেক জায়গায় সংযোগ দেয়া হবে।
গাবতলী (বগুড়া) : বগুড়ার গাবতলীতে মুদি দোকানের উপর বটগাছ ভেঙ্গে উমা চন্দ্র (৫২) নামের এক ঘুমন্ত পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। ২৭ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৪টায় কালবৈশাখীর ঝড় বয়ে যাওয়ার সময় উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের লাঠিগঞ্জ বাজারে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, ২৭ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৪টায় কাল বৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এ সময় বগুড়া গাবতলীর চকরাধিকা গ্রামের মৃত কালিদাসের ছেলে উমা চন্দ্র নামের এক ব্যক্তি মুদি দোকানের মধ্যে ঘুমাচ্ছিলেন। এমন সময় দোকানের পাশে থাকা বড় একটি বটগাছ ভেঙ্গে ওই মুদি দোকানের উপর পড়ে। এতে দোকানের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা মুদি দোকানদার উমা চন্দ্র গাছের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। তারা বটগাছের নিচে চাপা পড়া উমা চন্দ্রের লাশ উদ্ধার করেন। থানার ওসি রাকিব হোসেন বলেন, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বটগাছ কেটে ভিকটিমের লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ঝড়ে গাছের চাপায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু
আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে বেদে সম্প্রদায়ের আরাফাতুন (২০) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরআগে ভোরে সরকারি কলেজ মাঠ সংলগ্ন আত্রাই নদীর তীরে বেদে পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে বেদে সম্প্রদায়ের ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। হঠাৎ করে ভোরের দিকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়লে তার নিচে চাপা পড়েন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে গাছ পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
প্রচ- ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে শৈবাল
প্রজেক্টে অর্ধকোটি টাকার মাছের মৃত্যু
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকায় অবস্থিত শৈবাল মৎস্য প্রকল্পে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে শর্ট সার্কিটের ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, প্রকল্পটির ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনের একটি খুঁটি থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে, এতে ২০-২৫ মণ মাছ মারা যায়। একইভাবে গত ১৯ মার্চ আরেক দফা দুর্ঘটনায় প্রায় ২০০ মণ মাছ মারা যায়। সবশেষ সোমবার গভীর রাতে আবারও তার ছিঁড়ে পানিতে পড়লে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মণ মাছ মারা যায়। এসব মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে মৃত মাছ ভেসে থাকতে দেখা গেছে, যার ফলে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রজেক্টজুড়ে রুই, কাতলা, কার্প, মৃগেল, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে আছে। কিছু মাছ পঁচে গেছে, আবার কিছু অর্ধমৃত অবস্থায় পানিতে ভাসছে। বিদ্যুতের লাইনটি প্রকল্পের ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলে গেছে এবং খুঁটিগুলোও বেশ পুরোনো। শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের ম্যানেজার মহিউদ্দীন আলম জানান, গভীর রাতে তার ছিঁড়ে পড়লে পানিতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে এবং মাছগুলো লাফালাফি শুরু করে। খবর পেয়ে বিদ্যুৎ অফিস লাইন বন্ধ করতে এলেও ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। প্রকল্পের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, “একই ঘটনায় তিনবারে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। বারবার বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলেও পুরোনো খুঁটি ও তার পরিবর্তন করা হয়নি। এতে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি।” এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ডিজিএম মো. জিহাদ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত লোক পাঠিয়ে লাইন মেরামত করা হয়েছে এবং পুরোনো খুঁটির স্থলে নতুন খুঁটি বসানোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়া সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, বিদ্যুতের লাইনের ওপর পাখি বসার কারণে শর্ট সার্কিট হয়ে তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। এতে পানিতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে মাছ মারা যায়। ঘটনাস্থলে টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।