কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে সন্তানের মৃত্যুর খবর শোনার চার ঘণ্টা পর পরে মায়ের মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় শোকের মাতম তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ২নং সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। সহশ্রম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলতাফ উদ্দিন শাহীন (৫৩) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে শোকে কাতর হয়ে নিহতের মা মোছাঃ জুবাইদা মনি (৮০) মারা গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৫ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গাজীপুরে অবস্থানকালে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ উদ্দিন শাহীন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে সহস্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ উদ্দিন শাহীন শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে সপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করতেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাহার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং ধান্দাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার পিতা হাজী মো: মনির উদ্দিন। কটিয়াদীর রায়খলা গ্রামে তার পৈতৃক বাড়ি হলেও গাজীপুরে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন।

ছেলের মৃত্যুর খবর গত শনিবার ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাত দুইটায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারজুড়ে। ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই চার ঘন্টার ব্যবধানে ২৬ এপ্রিল রবিবার ভোরবেলা আনুমানিক ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাতা মোছাঃ জুবাইদা মনি(৮০)। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর শোক তিনি সহ্য করতে না পেরে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

মৃত শাহীনের ভাইরা (আত্মীয়) শাহ আলমের ভাষ্যমতে, শাহীনের মা জুবাইদা মনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মা শাহীনকে খুব ভালোবাসতেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সে গাজীপুরে থাকলেও মাকে দেখতে প্রায়ই গোপনে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। ছেলের প্রতি ছিলো তার গভীর টান। হয়তো সেই টান থেকেই ছেলের মৃত্যুর শোক তিনি সহ্য করতে পারেননি।

২নং সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মহরম বলেন, ছেলের মৃত্যুর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মায়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করেছে। এমন ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই পরিবারের মা ও ছেলের পরপর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের মা ও ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকাবাসীর মধ্যে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।