যশোরে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাস্সিরীনের উদ্যোগে ‘মুফাস্সির সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) আল হেলাল ট্রাস্ট অডিটোরিয়ামের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক ও হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, কুরআন হলো মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। কুরআনের শিক্ষা শুধু ব্যক্তিজীবনের ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, শিক্ষা ও ন্যায়বিচারসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর দিকনির্দেশনা রয়েছে। মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, মুফাস্সিরদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনের আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও সুন্দরভাবে তুলে ধরতে হবে। বর্তমান সময়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের কারণে মানুষ অনেক ক্ষেত্রে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আলেম-ওলামা ও মুফাস্সিরদের দায়িত্ব হলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়া।
অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, সমাজ থেকে অন্যায়, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, অনৈতিকতা ও অবিচার দূর করতে হলে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান ও উত্তম চরিত্রে গড়ে তুলতে পারলে একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এজন্য মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে দ্বীনি শিক্ষার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক বলেন, কুরআনের মর্মবাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করা মুফাস্সিরদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শুধু কুরআন তেলাওয়াত নয়, এর অর্থ ও শিক্ষা অনুধাবন করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি মুফাস্সিরদের ঐক্যবদ্ধভাবে দ্বীনের সঠিক দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ বলেন, বর্তমান সময়ে কুরআনের জ্ঞানচর্চা ও তাফসিরের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সমাজে শান্তি, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে মুফাস্সিরদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাস্সিরীনের যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামা, মুফাস্সির, হাফেজ, শিক্ষক ও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলন শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।