নোয়াখালী সংবাদদাতা

গত বুধবার দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে মধ্যাহ্নভোজ চলাকালীন অতর্কিত হামলা চালায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের উন্নয়ন কাজ ও ফি আদায় সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা না পেয়ে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে এই তা-ব চালানো হয়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও ফুলের টব ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে চরম অসভ্য আচরণ করে।

এ সময় হামলা চলাকালীন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর শারীরিক আক্রমণ চালিয়ে তাঁর গায়ের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে “মেরে ড্রেনে ফেলে দেওয়ার” হুমকি দেয় উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা। শিক্ষকদের অভিযোগ, সস্ত্রীক উপস্থিত সাবেক অধ্যক্ষের সামনেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন কে স্থায়ী বহিষ্কার করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ কে (২ মাসের জন্য) সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে শোকজ ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের এই কঠোর পদক্ষেপকে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই অপমানের বিচার ও বর্তমান কমিটি বাতিলের দাবিতে কলেজে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে শিক্ষক পরিষদ। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্নাতক পরীক্ষাগুলো কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও তাদের ৪ দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।