নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরের পদ্মা-গড়াই মোহনা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এই তথ্য জানান।

​মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চের যেকোনো এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিন উপস্থিত থেকে এই মেগা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের সময় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ পথ পরিক্রমা ও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ২০২৬ সালে এসে এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপ লাভ করছে।

​প্রকল্পের সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ১৯টি জেলার আশপাশের উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ও সুফল পৌঁছে যাবে। নদীমাতৃক এই দেশের নদীর প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি সুনির্দিষ্ট না থাকায় দীর্ঘকাল ধরে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ও আকস্মিক বন্যায় বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় খালসহ সংযুক্ত জলপ্রবাহগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কৃষিকাজে এবং সুন্দরবনের ভঙ্গুর প্রতিবেশব্যবস্থায়। পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব গতি আসবে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্য বজায় থাকবে।

​প্রকল্পের কাঠামোগত বিশদ বিবরণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, মূল পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি কৌশলগত কারণে পদ্মা নদী ও গড়াইয়ের সংযোগস্থলেও একটি ব্যারেজ বা গড়াই অফটেক নির্মাণ করা হবে। এই অবকাঠামোতে মাছের অবাধ চলাচলের জন্য বিশেষ ফিশ পাস, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সচল রাখতে নেভিগেশন লক এবং পানির প্রবাহ ও উচ্চতা সুনিয়ন্ত্রিত রাখতে প্রয়োজনীয় গেট ও আন্ডার স্লুইস যুক্ত থাকবে। এর ফলে পুরো অঞ্চলের জল ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

​ভারত এই মেগা প্রকল্প নিয়ে কোনো অস্বস্তিতে পড়বে কি না সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই এবং দেশের নিজস্ব স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কাজ পরিচালিত হচ্ছে। দেশের স্বার্থরক্ষা ও এই মেগা প্রকল্প সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

​পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ,সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারসহ সংগঠনের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদমন্ত্রী কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।