সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সংসদের লড়াই রাজপথে চলে আসবে

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করার পর বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল বলা যায় না। গণতান্ত্রিক দল হলো ঐ দল যেই দল জনগণের মতামত মেনে নেয়। কিন্তু বিএনপি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একটি অগণতান্ত্রিক দলে পরিণত হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গণমিছিলের পূর্বে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত গণভোটের রায় মেনে না নেবে বিএনপি ততদিন পর্যন্ত একটি অগণতান্ত্রিক দল হিসেবেই থাকবে।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি আদায়ে সংসদে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সংসদের লড়াই রাজপথে চলে আসবে। গণভোটের রায় মেনে না নিলে জনগণ সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, জুলাই যারা মুছে দিতে চায় তাদেরকে মুছে দিতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা তরুণ প্রজন্ম ভুলবে না, মুছতে দেবে না। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাইয়ের কারণে লন্ডন থেকে দেশে আসতে পেরেছেন, জুলাইয়ের কারণে কেউ শিলং থেকে দেশে আসতে পেরেছেন। সুতরাং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করে কৃতজ্ঞতার পরিচয় দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। শেখ হাসিনা ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কিন্তু জনগণের বিপক্ষে যাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা ধুলোয় মিশে গেছে। জনগণ শুধু ক্ষমতা থেকেই নামায়নি বরং দেশ ছাড়াও করেছে। আজকেও যারা ক্ষমতার দাম্ভিকতায় জনগণের বিপক্ষে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই হতে পারে। আওয়ামী লীগের পরিণতি ভোগ করার আগেই গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, আজ এক ঐতিহাসিক দিন। ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল জুলাই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় আওয়ামী লীগের সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র লক্ষ্য ছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলন টিকিয়ে রেখে বিজয় নিশ্চিত করা। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে সমাধান হবে।

জুলাই বিপ্লবে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে বিএনপি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে বিএনপি। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন, জনগণকে বিভ্রান্ত ও ধোঁকা দেওয়ার আরেক প্রতারণা। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন এবং নতুন নতুন আইন করা সংসদের নিয়মিত (রুটিন) কাজ। এরজন্য আলাদা করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। জনগণ সংবিধান সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার চায়। ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মতামত দিয়েছে। তাই জনগণের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে এক বিশাল গণমিছিল পল্টন-জাতীয় প্রেস ক্লাব-হাইকোর্ট চত্বর হয়ে মৎস্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত পথসভায় ডাকসু ভিপি মোহাম্মদ আবু সাদিক কায়েম বলেন, প্রয়োজনে আমরা জীবন দেবে তবুও আমরা জুলাই শহীদদের আকাঙক্ষার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দাবি থেকে পিছিয়ে যাবো না।

তিনি বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকুসর নেতৃত্বে আসার পর অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। আগামীদিনে নগরবাসী আমাদেরকে সুযোগ দিলে আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরশন থেকে দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করবো, ইনশাআল্লাহ। এসময় কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার হাজার-হাজার জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

“জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে” : ড. হামিদুর রহমান আজাদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাইয়ের গণহত্যাসহ সকল হত্যাকা-ের বিচার এবং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকালে নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বহদ্দারহাট মোড় থেকে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদপুর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, মহানগর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর পিতা জাকির হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু আজও জনগণ দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র পায়নি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশের প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সবার একটাই দাবি, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

ড. আজাদ বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হলেও এখন সেই অঙ্গীকার ভুলে যাওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে। চারপাশে চাঁদাবাজদের রেখে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও নির্যাতিতদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেমে থাকবে না। তিনি বলেন, ওসমান হাদীসহ সকল শহীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদকে সমান মর্যাদায় মূল্যায়ন করতে হবে এবং আহত ও নির্যাতিতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শহীদদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার সমালোচনা করে বলেন, জনগণ আজ ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রত্যাশা করছে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমীর হোসাইন, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আযম, চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল, চকবাজার থানা আমীর আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুরসহ চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন,গণহত্যায় জড়িত শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের বিচারের দাবিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিণ গণমিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। এসময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী সহ জামায়াত নেতৃবৃন্দরা অবস্থিত ছিলেন।

চন্দনাইশ : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে মানুষ স্বৈরাচারের গুলির মুখে বুক পেতে দিয়েছিল। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মানুষ জুলাইকে ধারণ করে দেশকে পূনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু গণভোটে গণরায় দেয়ার পরও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোন অগ্রগতি নেই। বরং সরকার জুলাই সনদ নিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সরকারকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

উপজেলা আমীর মাওলানা কুতুবউদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

উপজেলা সেক্রেটারি আহসান সাদেক পারভেজ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আয়ূব আলী, পৌরসভা আমীর কাজী কুতুবউদ্দিন, দোহাজারী পৌরসভা আমীর শহীদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

‎‎বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বাঁশখালীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাঁশখালী উপজেলা শাখা।

‎‎আজ ১লা আগস্ট শনিবার বিকাল ৫টায় উপজেলার চাম্বল বাজার উত্তর দিক থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে স্থানীয় প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসাইনিয়া ক্লাব মাঠে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। ‎‎মিছিল পরর্বুী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল।

‎‎প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাহিরুল ইসলাম এমপি।

‎‎‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসাইন সিকদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফ উল্লাহ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এডভোকেট জিএম সাইফুল ইসলাম মিনার, মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল ও নেতাকর্মী এবং জুলাই যোদ্ধারা।

‎‎বক্তারা জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সিলেট ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা কেবল ক্ষমতার পালাবদলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেনি। জুলাইয়ের শহীদদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং দেশকে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল কথায় কথায় গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নিতে চাচ্ছে। অথচ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঠেকাতে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল এই বিপ্লবের পেছনে কারা জড়িত। কিš‘ আমরা ফ্যাসিস্টের কাছে মাথা নত করিনি।

তিনি গতকাল শনিবার বাদ আসর নগরীর ঐতিহাসিক কোর্টপয়েন্টে সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। গণমিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ও জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।

গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু, সিলেট মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফারুক, শাহপরান পশ্চিম থানা আমীর রফিকুল ইসলাম মজুমদার প্রমূখ। সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কোতোয়ালী পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা আজিজুল ইসলাম।

রাজশাহী ব্যুরো : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে শনিবার এক গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বক্তারা বলেন, কোনো জাতি তার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উপেক্ষা করে সামনে এগোতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়। সেই প্রত্যয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের আকাঙ্খক্ষা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে।

গণমিছিলটি রাজশাহী নিউমার্কেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে মনিচত্তর,আলুপট্টি, কুমারপাড়া হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে পথসভায় মিলিত হয়। এ সময় মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার এবং জনগণের গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে সাহেববাজার এলাকায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, নায়েবে আমীর ডা. মো. জাহাঙ্গীর, মহানগর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন ম-ল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, ত্রাণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, ব্যাবসা ও কল্যান সম্পাদক অধ্যাপক একেএম সারওয়ার জাহান প্রিন্স, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ, তরবিয়ত সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামানসহ মহানগর ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বগুড়া অফিস

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বগুড়ায় গণমিছিল করেছে জামায়াত। শনিবার বাদ আসর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরীর নবাববাড়ীস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলের পূর্বে আয়োজিণ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, সেক্রেটারি আ. স. ম. আব্দুল মালেক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল আলম, অ্যাডভোকেট আল আমিন, আব্দুল হামিদ বেগ, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আব্দুস সালাম তুহিন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া মহানগর শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

খুলনা ব্যুরো

আগামীতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, যে লক্ষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়েই জুলাই বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর নিউমাকেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ গেটে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি. সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, মহানগরী জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস।

খুলনা নিউ মার্কেটের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে শিববাড়ি মোড়, পাওয়ার হাউস মোড়, ফেরীঘাট মোড় হয়ে ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকারীদের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন কর, করতে করতে হবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করো, করতে হবে, আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, গোলামী না আজাদী, আজাদী-আজাদী, দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’ সহ বিভিন্ন শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় গোটা খুলনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল গণ মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের সেন্টু মার্কেটের সামনে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নায়েবে আমীর ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি মোঃ লতিফুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আবু বকর, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আলিম অ্যাডভোকেট, পৌর নায়েবে আমীর এ্যাডভোকেট শফি এনায়েতুল্লাহ, ইসলাম ছাত্রশিবির শহর শাখার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সেক্রেটারি আব্দুল রহমান প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বড় ইন্দরা মোড় হয়ে শান্তি মোড গিয়ে শেষ হয়।

রংপুর অফিস : জুলাই বিপ্লবের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলের উদ্যোগে রংপুর মহানগরে গতকাল শনিবার বিকেলে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিণ বিক্ষোভ গণমিছিলটি স্থানীয় জুলাই চত্বর, টাউন হল চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ থেকে শুরু হয়ে নগরীর সিটি বাজার, সুপার মার্কেট, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, গ্রান্ড হোটেল মোড় হয়ে শাপলা চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে এই বিশাল গণমিছিল শেষ হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর মহানগর আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও রংপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সেক্রেটারী আনোয়ারুল হক কাজল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী আল আমীন হাসান সদর উপজেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল গনি, ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।

মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা : জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলের উদ্যোগে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় গতকাল ১লা আগষ্ট শনিবার বিকেলে এক বিশাল গণমিছিল ও মহাসড়কের ফ্লাই ওভারের নীচে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এবং রংপুর জেলা আমীর ও রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা সেক্রেটারী মাওলানা এনামুল হক , মিঠাপুকুর উপজেলা আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর জেলা সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ বেলাল, মির্জপুর উনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। এর আগে একটি বিশাল গণমিছিল উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা :

পাবনার সাঁথিয়ায় জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে পাবনা- ১ এর এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে শনিবার সকাল ১০ টায় সারা দেশের ন্যায় সাঁথিয়ায় জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বোয়ালমারী কামিল মাদ্রাসা গেট থেকে মিছিল শুরু হয়ে সাঁথিয়া উপজেলা গেটের সামনে এসে শেষ হয়। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও: মোখলেসুর রহমান,এর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আনিসুর রহমান এর পরিচালনায় উক্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন সাঁথিয়ার সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফ্ফার খান,সুরা সদস্য আব্দুল মালেক প্রমুখ।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরের মেট্রো সদর থানা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শনিবার বিকেলে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মিছিলটি শিববাড়ী মোড় থেকে শুরু হয়ে জয়দেবপুর বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণরায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মেট্রো সদর থানা জামায়াতের আমীর ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাদেকুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. খায়রুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেট্রো সদর থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রবিউল হক, নায়েবে আমীর গাজী আব্দুর রব ও জালাল উদ্দিন, অফিস সম্পাদক মাওলানা আবু তাহের, সহকারী সেক্রেটারি কাজী মাহফুজুল্লাহ, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তারেকুজ্জামান খান, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জাহিদ হাসানসহ মহানগর ও থানা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর সংবাদদাতা : জুলুম-নির্যাতন, গুম ও হত্যার মাধ্যমে কোনো আদর্শিক ও সত্যপন্থী রাজনৈতিক দলকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মুহাম্মদ আবদুল জব্বার।

গতকাল শনিবার বিকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে ২০২৪ সালের ১ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল জব্বার বলেন, বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলন যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

তিনি বলেন, “তারা ভেবেছিল আইন, জেল-জুলুম ও হত্যাকা-ের মাধ্যমে একটি আদর্শিক আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। কিন্তু আল্লাহর কী অপরূপ মহিমা! মাত্র চার দিনের ব্যবধানে যারা জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল, তারাই জনগণের তীব্র রোষের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য জামায়াতে ইসলামী, বিএনপিসহ দেশের মুক্তিকামী মানুষ আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেছে।

আবদুল জব্বারের দাবি, গত ১৭ বছরে কোনো অপরাধ ছাড়াই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর কারাভোগ করতে হয়েছে এবং নানা ধরনের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈন উদ্দিন আহমদ।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।