বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, "জুলাইয়ের শহীদদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং দেশকে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল কথায় কথায় গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নিতে চাচ্ছে। অথচ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঠেকাতে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল এই বিপ্লবের পেছনে কারা জড়িত। কিন্তু আমরা ফ্যাসিস্টের কাছে মাথা নত করিনি। সর্বশক্তি নিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছি। যার ফলে দেড় হাজার শহীদ ও ৩০ হাজারের বেশি আহত জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরেও জাতি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখতে পারছে না। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে জাতির সাথে প্রতারণা করে ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গলা টিপে হত্যা করেছে।"
তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা কেবল ক্ষমতার পালাবদলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেনি। রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করে জনগণের অধিকার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় গিয়ে সেই দাবি থেকে সরে গিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে। সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই দেশে নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি শনিবার (১ আগস্ট) বাদ আসর নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। গণমিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।
গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু, সিলেট মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফারুক, শাহপরান পশ্চিম থানা আমীর রফিকুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ। সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কোতোয়ালি পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা আজিজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, "পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছে। তারা আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে শহীদ করেছে, শত শত নেতাকর্মীকে খুন-গুম করেছে এবং লাখো নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। কিন্তু জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। কারণ জামায়াত একটি বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।"
তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করতে জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। শিগগিরই ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে নতুন কর্মসূচি আসছে। সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সিলেটবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।"
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, "সরকার শুধু জুলাই সনদ উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিল করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার ৫ মাসে জাতিকে দুর্ভোগ ছাড়া কিছুই উপহার দিতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশব্যাপী গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। রাস্তাঘাট সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে জনদুর্ভোগ ক্রমশই বাড়ছে। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।" একই সাথে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।