রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুর ১টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযানে ৬১ জন নিহতের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে অন্যতম ‘পরামর্শদাতা ও সিদ্ধান্তদাতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দাবি করেছেন, ওইদিন বিকেলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ‘ঢাকা ছাড়ুন’ হুঁশিয়ারি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে যার ভিত্তিতে ‘ব্ল্যাকআউট’ করে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়, লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন তার অন্যতম রূপকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মিজানুল ইসলাম তৎকালীন সংবাদপত্রের সূত্রের বরাত দিয়ে বলেন, ‘বৈঠকে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেনÑ ‘ঢাকা ছাড়ুন, না হলে ভবিষ্যতে ঘর থেকে বের হতে দেব না।’ পরবর্তীতে লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং এরই ফলশ্রুতিতে রাতে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে ব্ল্যাকআউট করে অপারেশন চালানো হয়। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এই নির্মমতায় ৬১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। লতিফ সিদ্দিকী এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরামর্শদাতা ও সিদ্ধান্তদাতা।’

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘হেফাজত নেতাকর্মীদের মহাসমাবেশ ভণ্ডুল করার জন্য এবং শক্তি প্রয়োগ করে এমনকি ‘লেথাল উইপেন’ ব্যবহার করে তাদের এলিমিনেট করার জন্য তিনি উস্কানি ও পরামর্শ দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ধানমন্ডি কার্যালয়ে একটি নীতি-নির্ধারণী বৈঠক হয়, যেখানে লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।’

এর আগে শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত ২৭ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে এই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ১০ জনকে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।