ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদীকে হত্যার চেষ্টাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। না হলে ১৫ ডিসেম্বর শহীদ মিনার থেকে এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। হাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালিত হামলার প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজিত ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাবেশ ও গণ প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচির সভাপতি হিসেবে এই ঘোষণা দেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। মাহমুদুর রহমান বলেন, এই সরকার জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হাদীর ওপরে হঠাৎ করে আক্রমণ হয়নি। তার ওপর যে আক্রমণ হবে সেটা বারেবারে জানান দেওয়া হয়েছে। আজক জুলাই যোদ্ধাদের ওপরে আক্রমণ করা হচ্ছে। ফুয়াদ (এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক) আক্রান্ত হয়েছে। জুবায়ের (ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী বা এ বি জুবায়ের) বলে গেলেন, টেলিফোনে হুমকি আসছে। অথচ এই সরকার ভদ্রতা দেখাচ্ছে। তারা এখন পর্যন্ত কোনো কম্বিং অপারেশন চালাতে পারে নাই। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের কোনো অ্যাকশন তারা দেখাতে পারে নাই।

মাহমুদুর রহমান বলেন, হাদীকে যারা হত্যা করার চেষ্টা করেছে, সেই আততায়ীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে ১৫ ডিসেম্বর শহীদ মিনার থেকে এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তারা দ্বিতীয়বার বিপ্লব করে অসম্পূর্ণ বিপ্লব পূর্ণ করবেন। যাতে করে সব রাজনীতিবিদ বলতে বাধ্য হয়, এবার বাংলাদেশে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে ১৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেলা ৩টায় সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গতকালের গুলীটা ওসমান হাদীর মাথা ফুটো করে যায় নাই, এটা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের বিবেককে ফুটো করে গেছে। বাংলাদেশের শত্রু আওয়ামী লীগ এবং ভারত উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের কোনো ধরনের কোনো স্থান হবে না। সে যেই নামেই থাকুক না কেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এখন গুলশানে জাতীয় পার্টির নামে তারা আবার ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। ওসমান হাদী ভাইয়ের রক্তের শপথ, ওদেরকে বাংলাদেশে এক ইঞ্চিও জায়গা দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবে না।

ওসমান হাদী যেন বেঁচে ওঠেন সেজন্য দেশবাসী দোয়া করছে উল্লেখ করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, যারা ওসমান হাদীর নামটা পর্যন্ত সুন্দর করে উচ্চারণ করতে পারেন না, যারা ইনকিলাব মঞ্চের নাম শোনেন নাই, তারা আগামী দিনের বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবেন। এটাই হচ্ছে আগামী দিনের রাজনীতির মূল তত্ত্বকথা। আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, গণÑঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করে, বাংলাদেশকে আবার নতুন করে দিল্লির কাছে বেচে দেওয়ার সেই নাটক মঞ্চস্থ চলছে। বক্তব্য খুব পরিষ্কার, বাংলাদেশ ৫ আগস্টের অতীতে ফিরে যাবে না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারবে না। বাংলাদেশে দিল্লির দাসত্ব কায়েম হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, বর্বরোচিত কাপুরুষোচিত হামলা শুধু ওসমান হাদীর ওপরে হয়নি, হামলা হয়েছে বাংলাদেশের ওপর। হামলা হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর, হামলা হয়েছে জুলাই বিপ্লবের ওপর। মামুনুল হক বলেন, বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর থেকে বহুদিন পর্যন্ত তিনি একটি কথা অনুভব করেছেন, সেটি হলো জুলাই বিপ্লবের অংশীজনদের মধ্যে বিভক্তি নতুন করে পরাজিত শক্তিকে বাংলাদেশে পুনর্বাসনের পথ তৈরি করবে। অনেক চিৎকার করেও তিনি জুলাই বিপ্লবের অংশীজনদেরকে এ কথাটা বোঝাতে পারেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘আমার ভাই ফেরত আসবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলবে। এক বছর ধরে আপনারা যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-মতের মানুষ আছেন, আপনারা যে কাজটা করতে পারেন নাইÑসেটা হচ্ছে কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন নাই। সেই কাজটাই এই মানুষটা করতে গিয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। কারা কারা উল্লাস করছে, আমরা সেটাও দেখছি।

এই সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। সমাবেশ শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে টিএসসির দিকে যান। এ সময় তারা ‘আমরা সবাই হাদী হবো, গুলীর মুখে কথা কব’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদী হাদী’, ‘হাদী ভাইয়ের ভয় নাই, আমরা আছি লাখো ভাই’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিএনপি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা ৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ওসমান হাদী গুলীবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীসহ সারদেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সামবেশ করে । সমাবেশ থেকে এই হামলার নিন্দা ও ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

নয়াপল্টনের সামবেশ থেকে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদীর ওপর বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদী গুলীবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, দুপুর দুইটায় হাদী গুলীবিদ্ধ হলেন, তার আধাঘণ্টা পরই একটি দল উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া শুরু করে। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পেলাম সবই পরিকল্পিত। আমি ঢাকার ছেলে। দীর্ঘ ৫০ বছর ঢাকায় রাজনীতি করি। আমি শান্ত ছিলাম। আমরা শান্ত না থাকলে হাদীর চিকিৎসা ব্যাহত হতো। তারা চেয়েছিল হাদীর চিকিৎসা যাতে ব্যাহত হয় এবং সে মারা যাক। তিনি আরও বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্র আমরা ৭১, ৮৬-সহ অনেক দেখেছি। এদের মূল শক্তিই ষড়যন্ত্র। এরা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রকে সবসময়ই অস্থিতিশীল রাখতে চায়।

হাদী গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর এক-দেড়শ লোক ফেসবুকে দেশে মব সৃষ্টির জন্য উসকানি দিয়ে পোস্ট দিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা সবাই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের। ৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছি। কারও সঙ্গে মারামারি হয়নি। একসঙ্গে প্রার্থীরা কোলাকুলি করেছি, খেয়েছি। মারামারি করে আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচনসহ রাষ্ট্রকে অস্থির করে সেই বিতর্কিত রাজনৈতিক দল। আমরা চাই হাদীর ওপর হামলাকারী গ্রেপ্তার হোক এবং বিশেষ দলের মুখোশ উন্মোচিত হোক।

হাদী আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী উল্লেখ করে আব্বাস বলেন, সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব, সেই প্রত্যাশা করি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে সবাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, শেখ রবিউল আলম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

জুলাই ঐক্যের মিছিল ও সমাবেশ

জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদীকে ভারতীয় প্রক্সি কর্তৃক টার্গেট কিলিং ও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঐক্যবদ্ধ মোর্চা, জুলাই ঐক্য। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর শাহবাগ থেকে মিছিল শুরু করে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারের সামনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজ সেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, কবি বুরহান মাহমুদ। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়া, লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ, লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান।

জুলাই ঐক্যের সংগঠক ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ওসমান হাদী বাংলাদেশের অস্তিত্ব, তাকে ভারতপন্থীরা হত্যা করতে চায়। ইন্টারিমকে অনেকবার সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু এই সরকার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সাদিক কায়েম, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ জুলাইয়ের সম্মুখ সারির নেতাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইন্টারিম কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

জুলাই ঐক্যের সংগঠক ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই আমরা প্রশাসনে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের তালিকা প্রকাশ করেছিলাম; কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জুলাই যোদ্ধাদের কোনো প্রকার নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি।

জুলাই ঐক্যের সংগঠক ডাকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, আমরা হাদী ভাইয়ের ওপর হামলা হওয়ার পর থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছি। কিন্তু এই প্রশাসন আমাদের এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আমাদের দিতে পারেনি। আমরা আর বসে থাকবো না, জুলাইকে রক্ষা করার জন্য লাখো হাদী আজ রাজপথে। গুলী করে আমাদের মুখ বন্ধ করানো যাবে না। ভারতীয় কোনো ষড়যন্ত্র আমরা আর মানবো না। যেখানেই দিল্লির দোসরদের দেখা মিলবে সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে।

জুলাই সমাবেশ শেষে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী বলেন, শরীফ ওসমান বিন হাদী আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের জুলাইয়ের চিহ্ন, স্বৈরাচারের দোসরা তাকে হত্যা করতে চায়। সরকার জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা না দিয়ে আরও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গণমাধ্যমের টকশোতে বসে হাদীকে হত্যাযোগ্য করা হয়েছে। বিডি নিউজ ফ্রেমিং করে হাদী ভাইকে হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িয়েছে। আনিস আলমগীররা টকশোতে বসে জুলাই নিয়ে কটূক্তি করছে, আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি। গণমাধ্যম তাদের দিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করলে আমরা দেখে নেব কীভাবে তারা মিডিয়া চালায়। ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে কোনো ভারতপন্থী মিডিয়া চলতে দেওয়া হবে না। এ দেশে কেবল বাংলাদেশপন্থী মিডিয়া চলবে।

লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, বিডিআর কমিশন পরিষ্কার বলেছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারত সরাসরি জড়িত, অথচ ইন্টেরিম সরকার এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো প্রকার অভিযোগ করেন নাই। এবং জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়া বলেন, হাদীকে হত্যাচেষ্টা করা মানে বাংলাদেশের জুলাই জনতার মুখকে হত্যা করার শামিল। জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড়ো পাওয়া হলো আধিপত্যবাদ বিরোধী নেতাদের পাওয়া। সুতরাং হাদীই বাংলাদেশ।

লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা কে বলতে চাই আপনি আঠারো মাসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, খোদাবক্স এবং আইজিপি এই তিনজন ভালো কোনো কাজ দেখাতে পারেনি, তারা ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে এই তিনজনকে বহিষ্কার করুন। দেশপ্রেমিক, যোগ্য, সৎ, সাহসী তিনজনকে নিয়োগ দিন। হাদীর হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।

হেফাজতে ইসলাম

গুলীবিদ্ধ মরণাপন্ন শরীফ ওসমান হাদীর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশব্যাপী দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। বিবৃতিতে গুপ্ত হত্যা চালিয়ে দেশপ্রেমিক ঈমানদার সাহসী জুলাইযোদ্ধাদের স্তব্ধ করা যাবে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াকু সৈনিক ও জুলাইর চেতনাবাহী নতুন প্রজন্মের বিপ্লবী কণ্ঠস্বর শরীফ ওসমান হাদী আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের গুলীতে আহত হয়ে হাসপাতালে মরণপণ লড়াই করছেন। আমরা মসজিদ-মাদরাসাসহ সারা দেশে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের দরবারে সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তি সম্মিলিতভাবে জুলাই বিপ্লবীদের গুপ্ত হত্যায় মাঠে নেমেছে। গুলী করে তাদের স্তব্ধ করা যাবে না। মৃত্যুভয় তারা পরোয়া করে না। এক ওসমান হাদীর রক্তের ওপর লক্ষ ওসমান হাদী দাঁড়িয়ে যাবে। ভয় দেখিয়ে এদেশের জনগণকে আবারও পদানত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো ইনশাআল্লাহ।

হেফাজত নেতারা বলেন, ওসমান হাদীর ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। জাতীয় শত্রু আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের নাম-নিশানাও বাংলার জমিন থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। গণহত্যাকারীদের সঙ্গে কোনো আপস বা আঁতাত চলতে পারে না। আওয়ামী সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।

খুলনা ব্যুরো

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ওপরই হামলা উল্লেখ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। নির্বাচন তফসিল ঘোষিত হয়েছে ১০ তারিখ। তার পরদিনই বাংলাদেশের একজন সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পদপ্রার্থীর ওপরে প্রাণনাশের হামলা, এটা একটা পেশাদার, প্রফেশনাল খুনির কাজ। আমরা ঐক্যটা দেখাতে চাই, ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ঐক্যটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এর মাধ্যমেই আমরা এ ধরনের জাতীয় সংকট রুখতে পারব।

শনিবার সকালে বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদীর উপর সন্ত্রাসী হামলা ও গুলী বষর্ণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর খান এ সবুর রোডস্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে পিকসার প্যালেস মোড় হয়ে ডাকবাংলো, চেম্বার ভবন হয়ে ডাকবাংলো চত্বরে এসে শেষ হয়।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, ওসমান হাদী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে (হাদীকে) জীবিত রাখেন, বাঁচিয়ে রাখেন, সুস্থতা দেন। তিনি এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, কাজী মো. রাশেদ, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন।