দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুতের অসংগতিপূর্ণ ‘ভূতুড়ে বিল’ এবং অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, একদিকে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হলেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান বা উত্তোলনে সরকারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। অন্য দিকে প্রদেয় সেবার মান না বাড়িয়ে বিদ্যুতের ওপর অন্যায্য আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "দেশে গ্যাসের ঘাটতি ও লোডশেডিং বর্তমানে এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় রাজপথে রান্নার হাড়ি-কড়াই ও খুন্তি নিয়ে নারীদের মিছিল করতে হচ্ছে। এলপিজি গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সীমাহীন বেড়েছে।"
গ্যাস সংকটের জেরে দেশের শিল্প খাত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় পোশাক কারখানা, সার কারখানা ও ইস্পাত কারখানায় উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে। এ সংকট দ্রুত দূর করতে নতুন গ্যাসক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।"
বিদ্যুৎ খাতের বিশৃঙ্খলা ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, "বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশজুড়ে 'ভূতুড়ে বিল' আদায়ের মহোৎসব চলছে। বাসাবাড়ি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি বিলের ট্যারিফ চাপিয়ে দেওয়া হলেও সরকার এর কোনো সুরাহা বা তদন্ত করছে না। একদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব, অন্যদিকে অন্যায় বিলের চাপ—দুয়ে মিলে গ্রাহকরা নিদারুণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।"
ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করা হয়, জনজীবনের এই মৌলিক সংকটগুলো সমাধানের বদলে সরকার বিরোধী মত দমন ও অনাবশ্যক বিভ্রান্তিকর চর্চায় ব্যস্ত রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া ঠেকাতে এবং জনভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় দলটি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।