স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষ দিকে। ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে তা শেষ করতে। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ বাতিল করার পরিকল্পনা নেই সরকারের বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, এ সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে কোনো সাংবাদিক যাতে কারাগারে না থাকেন, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর আশা করছি ডেঙ্গুর প্রকোপ সেভাবে বাড়বে না। তবে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।
এই উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষ দিকে আর ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে শেষ করতে। উপজেলা পরিষদ বাতিল করার পরিকল্পনা নেই সরকারের।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরে শেষ হবে কি না- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, না। বলা হয়েছে যে নির্বাচনটা ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে শুরু হওয়ার পর। নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষের দিকে, কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সেটাও ইনফ্যাক্ট ওই মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।
দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আছে বলেও জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
হামের টিকা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু হামের টিকা পেয়েছে, যা ৮৯ শতাংশ। কয়েকদিনের মধ্যে শতভাগ শিশু হামের টিকা পাবে। একজন শিশুর মৃত্যুও কাম্য নয়, তবে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩০০ শিশু মারা গেছে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করছি। হামের টিকা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সংকট হবে না।
টিকা নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুমৃত্যু ঘটুক তা হয়ত অন্তবর্তী সরকারও চায়নি। তারপরও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার (৩ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৩১১ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৯ জনে। আর নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে।