বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভা যুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্য বিশেষ করে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা ধরে রাখা ফেডারেশনকে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন লক্ষ্য এশিয়ান মঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করা, আর সেই লক্ষ্যে দেশের বাইরে বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই তরুণ ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস এবং জিদান ইউসুফ বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের দুজনকেই সামনে থাকা এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই সামনে রেখে ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ১৯ বছর বয়সী রাইট উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর যুব একাডেমিতে সময় কাটানোর পর বার্নলি এফসি অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলেছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি উইদেনশো ক্লাবে যোগ দেন। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, তার ভিডিও ফুটেজ ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে টেকনিক্যাল টিম ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। যদিও তার পাসপোর্ট প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবে জুনের মধ্যেই তা শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। আগস্টের শেষ দিকে বাছাইপর্বের ক্যাম্পে তাকে দেখতে চায় ফেডারেশন। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক জিদান ইউসুফ ইতোমধ্যে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। লন্ডনে জন্ম নেয়া এই ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ডিফেন্ডার বর্তমানে ওয়ালটন এন্ড হের্শাম এফসি-এর মূল দলের হয়ে খেলছেন। তার পারফরম্যান্স নিয়েও ইতিবাচক মূল্যায়ন এসেছে এবং খুব শিগগিরই তাকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন ফাহাদ করিম। বাফুফে মনে করছে, এই দুই ফুটবলার যুক্ত হলে অনূর্ধ্ব-২০ দল আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। নারী ফুটবলেও একই ধারা বজায় রাখছে ফেডারেশন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাইলা মেদিনা আহমেদ বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্মতি দিয়েছেন। তবে আসন্ন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে পাওয়া যাবে না বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে তাকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে সিনিয়র জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় থাকা আরেক প্রবাসী ফুটবলারের বিষয়েও কথা বলেন ফাহাদ করিম। যদিও নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ট্রেভর ইসলাম। শুরুতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে সম্মতি দিলেও ব্যক্তিগত কারণে তিনি পাসপোর্ট প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছেন। বাফুফে জানিয়েছে, তিনি সিদ্ধান্ত নিলে যেকোনো সময় প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হবে এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আবারও আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, দেশের ফুটবলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি এখন বাফুফের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তরুণ পর্যায়ে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এবার সেই সাফল্য সিনিয়র ও এশিয়ান প্রতিযোগিতায় ছড়িয়ে দিতে চায় ফেডারেশন।
ফুটবল
বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার অপেক্ষায় অ্যাডাম জিদান ও শাইলা
বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভা যুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্য বিশেষ করে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা ধরে রাখা ফেডারেশনকে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করেছে।
Printed Edition