অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের পেস বোলিংয়ের এক নতুন আর বর্ণিল সূর্যোদয় দেখলো বিশ্বক্রিকেট। মারারা স্টেডিয়ামের সবুজ উইকেটে সুইং আর মায়াবী মুভমেন্টের পশরা সাজিয়ে স্বাগতিকদের অলআউট করে ডারউইনে লাল-সবুজের ইতিহাস রচনা করলেন হাসান মাহমুদ। অজি ব্যাটারদের নাস্তানাবুদ করে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার পথে দেশের প্রথম পেসার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ফাইফারের রেকর্ড গড়েন তিনি। হাসানের এই তাণ্ডবে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে গেছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া।

বাইশ গজে দুই দলের কারও পূর্বঅভিজ্ঞতা না থাকলেও ডারউইনের ২২ বছর পর টেস্ট ফেরার দিনে জেসন গিলেস্পি, রিকি পন্টিং আর অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের মতো অজি কিংবদন্তিদের সামনে রাজত্বটা নিজেদের বানিয়ে নেন বাংলাদেশের পেসাররা। টসে হেরে বল হাতে শুরু থেকেই অজিদের ওপর চড়াও হন হাসান ও তাসকিন। দ্বাদশ ওভারে আউটসুইঙ্গারে ঘরের ছেলে জেক ওয়েদারাল্ডকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে প্রথম আঘাত হানেন হাসান। এরপরের স্পেলে হাসানের ভেতরের দিকে ঢোকা আগুনে বলে স্টাম্প উড়ে যায় বিধ্বংসী ব্যাটার ট্রাভিস হেডের। ডারউইনের প্রেসবক্সে চাউর হওয়া ইংলিশ কাউন্টিতে আলো ছড়িয়ে আসা এই তরুণকে ধারাভাষ্য কক্ষে বসে অজি কিংবদন্তি মার্ভ হিউজ এক বাক্যে স্বীকৃতি দেনÑ‘টু গুড বোলার’।

ইবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দুই উইকেটের শিকারের দিনে দ্বিতীয় সেশনে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে তুলে নিয়ে নিজের ফাইফারের সুবাস পান হাসান। তবে তার সেরা শিকারটি ছিল জীবন পেয়ে ১টি ছক্কা ও ৭টি চারে ৭১ রান করা স্টিভ স্মিথ। স্মিথকে ডাউন দ্য উইকেটে ক্যাচে পরিণত করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার পূর্ণ করার পর নাথান লায়নকে ফিরিয়ে ইনিংসের যবনিকাপাত টানেন তিনি। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের পর ইতিহাস ছুঁয়ে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের সবকটিই ভাগাভাগি করে নিলেন বাংলাদেশের তিন পেসার।

দিন শেষে স্মারক বলটি উঁচিয়ে মাঠ ছাড়া হাসানের দারুণ দিনটা উজ্জ্বল রেখে শেষ করেন বাংলাদেশি ব্যাটাররাও। শুরুতেই জীবন পেয়ে মারমুখী তানজিদ হাসান তামিম (৩২*) ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হকের (৩৫*) অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটিতে ভর করে এদিন বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৬ রান। দিন শেষে এখনো ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাসানের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিত বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় এক জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।