আয়েশা সিদ্দিকা

ভারত সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও স্বাধীনতার লাভের পর থেকে দেশটিতে সে মূল্যবোধের খুব একটা চর্চা হয় নি বরং ধর্মান্ধতা উগ্রবাদের চর্চায় হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে দেশটিতে। ফলে দেশটি হারিয়ে ফেলেছে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক চরিত্র। মূলত উপমহাদেশে পাকিস্তান ও নেপাল সাংবিধানিকভাবে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র। অপরদিকে বাংলাদেশ ও ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যদিও বাস্তবতায় ভারতের চিত্র ভিন্ন রূপ। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু অসাম্প্রদায়িক এবং এ দেশের পরিবেশ, কৃষ্টি, সংস্কৃতি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।

পক্ষান্তরে ভারত একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। সেখানে বার্মার মতো রাষ্ট্রীয় মদদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, যার শিকার মুসলিম সহ নিম্নবর্ণের মানুষরা।

উল্লেখ্য, ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ ভারতীয় পার্লামেন্ট The Constitution of India, 1950, ১৯৫০ অনুমোদন করে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতের সংবিধান ১০৩ বার সংশোধন হয়েছে। ভারত একটি Union of States ভিত্তিক রাষ্ট্র। তার সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে: ভারত একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথমাংশে ‘প্রস্তাবনা’ উল্লেখ রয়েছে: ‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যেসব মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেসব আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে’।

ভারত যে একটি সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ রাষ্ট্র তা অবলীলায় স্বীকার করেন দেশটির আত্মসচেতন মানুষ এবং বুদ্ধিজীবি মহলের একাংশ। দেশটিতে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িকতা একটি জটিল ও বহুমুখী সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, যা মূলত ধর্মীয় মেরুকরণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের মাধ্যমে তীব্র রূপ ধারণ করছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিভিন্ন দল ধর্মীয় বিভাজনকে উসকে দিচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় উস্কানিমূলক বক্তব্য ব্যবহার করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে উগ্র স্লোগান এবং ঐতিহাসিক বা বিতর্কিত উপাসনালয় সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দেশটিতে উত্তেজনা ও দাঙ্গা সৃষ্টি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর, গুজব এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে গোরক্ষার নামে বা নানা অজুহাতে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা এখন দেশটিতে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দেশটিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটিতে গরু রক্ষা সংক্রান্ত সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং নিম্নবর্গের মানুষ। আর গরু নিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর যত হামলা হয়েছে, তার ৯৭ শতাংশই ঘটেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে। হামলার ৫২ শতাংশ ঘটেছে শুধু গুজবের ওপর ভিত্তি করে। যেখানে সত্যের বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব ছিল না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পটভূমিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি গুজরাটের আহমেদেবাদের সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠার শততম বার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণা দিলেন, যা ভারতের অনেকে কল্পনাই করতে পারেননি। তিনি সরাসরি ঘোষণা দিলেন, গো-রক্ষার নামে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উপস্থিত সবাইকে তিনি এই বলে সতর্ক করেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ বিষয়ে তার সরকারের কার্যকর কোন পদেক্ষেপ নেই।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের আশ্রয়স্থল ছিল ভারত। প্রথম থেকে চতুর্থ শতক পর্যন্ত খ্রিস্টানদের হয়রানির শিকার ইহুদিদের, সপ্তম শতকের শেষদিকে পলায়নপর পারসিক এবং ১৯ শতকে নির্যাতিত বাহাইদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতের সে সহিষ্ণুতা এখন আর অবশিষ্ট নেই বরং কালের বিবর্তনে দেশটি এখন উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে সহিষ্ণুতার লক্ষণগুলো দ্রুত মøান হয়ে যাচ্ছে। যে দেশ পলায়নপর নির্যাতিত লোকজনকে স্বাগত জানাত, অভিবাসী সংখ্যালঘুদের নিজেদের বিশ্বাস ও প্রথা বজায় রাখার সুযোগ দিত, সে দেশ এখন গরুর গোশত খাওয়া মানুষ শিকারি বুনো দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য হয়ে পড়েছে। তারা লোকজনকে নির্বিচারে হত্যা করছে। যা দেশটির জাতীয় ঐক্য ও জাতিস্বত্বাকে ভঙ্গুর ও দুর্বল করে তুলেছে।

গরু সংক্রান্ত কথিত নিষেধাজ্ঞা না মানার অজুহাতে হামলা-মামলার শিকার হতে হয় মুসলমানদের। ডয়েচে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নতুন দিলীøর সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক রাকেশ ব্যাটবাল বলেছিলেন, ‘মোদির নির্বাচনী জয়ের পর থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঘরে ফেরার নাম করে সংখ্যালঘুদের সনাতন ধর্মে দীক্ষিত করার প্রবণতা বাড়ছে। এমনকি স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক এবং সিলেবাসেও। এর পরপরই জনপ্রিয় পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী গজলসম্রাট ওস্তাদ গোলাম আলীকে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠান করতে দেয়নি মহারাষ্ট্রের কট্টর হিন্দুবাদী শিবসেনা। এ দল রাজ্যের বিজেপি সরকারের জোটসঙ্গী। এ শিবসেনার দাপটে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ কাসুরির একটি গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধাচরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুধীন্দ্র কুলকার্নির মুখে কালি দিয়ে হামলা চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। হিন্দু ধর্মান্ধ ও উগ্রবাদীদের এমন অসহিষ্ণুতা এবং বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড আটকাতে মোদি সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার প্রতিবাদে ভারতের ২৩ জন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তাদের সাহিত্য পুরস্কার ফেরত দিয়েছেন। কেউ কেউ বড় বড় সরকারি পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। সবার আগে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফেরত দিয়েছেন জওহরলাল নেহেরুর ভাগ্নি, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাইজি নয়নতারা সগেল। প্রতিবাদী সাহিত্যিকদের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের গুলাম নবী খায়াল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরই নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছিলেন ১২৫ কোটি ভারতীয়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি উন্নয়নের পথে হাঁটবেন। কিন্তু কিছু বিভেদ সৃষ্টিকারী অশুভ শক্তির কারণে তিনি এতদিন তা করতে পারেননি বলে দাবি করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শারদ পাওয়ারের একটি মন্তব্য বেশ চমকপ্রদ। তিনি বলেছেন, বিজেপির জয়ের পর ভারতের সাম্প্রদায়িকতা সর্বত্র দৃশ্যমান। তাহলে মোদি তার তার সরকার এ দায়ি থেকে মুক্ত হলেন কী করে ?

মূলত, ভারতে উগ্রবাদীরা সাম্প্রদায়িকতাকে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অনুসঙ্গ হিসাবে ব্যবহার করছে। বিষয়টি যতটা না ধর্মতাত্ত্বিক তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। এ জন্য নরেন্দ্র মোদি যতটা না দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আর এস এস) এবং শিবসেনা দল। এরা মোদির ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিভেদ সৃষ্টি করছে সারা ভারতে। ভারতের বহুত্ববাদকে কবরে পাঠিয়ে দিতে এ দুটি দল চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছে না বরং তা এখন রীতিমত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি এদের কাছে অসহায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এতদিন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। কিন্তু এ দায় থেকে মোদি বা তার সরকার কোন ভাবেই মুক্ত হতে পারেন না।

সম্প্রতি গো-মাংস খাওয়ার বিষয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলেছেন, কেউ গো-মাংস খাবেন কী খাবেন না তা তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর তিনি তা খেলে, আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হবেন না। গো-হত্যা পাপ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে গরু রফতানি বন্ধ রাখলেও গো-মাংস রফতানিতে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই ভারত। গো-মাংস রফতানিতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশ হিসেবে গত বছরও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে ভারত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সংস্থা (ইউএসডিএ) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ব্রাজিলকে দ্বিতীয় স্থানে রেখে ভারত তার শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে। গো-মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান তৃতীয়। বিশ্বের গো-মাংস রফতানির ৫৮.৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এই তিনটি দেশ। এর মধ্যে ভারত একাই করে ২৩.৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ২০.৮ শতাংশ। ভারতের সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য চাপা দিতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি স্পষ্টতই বিপুল ভূমিকা পালন করছে।

ভারতে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উত্থান নতুন নয় বরং ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর থেকেই এর ভয়াবহ বিস্তার শুরু হয়েছে। ভারত ১৯৪০-এর দশকে মারাত্মক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ব্যাপক রক্তপাত দেখেছে। অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন নেতারা তাদের ভিশন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তা প্রতিরোধের প্রয়াস চালিয়েছিলেন। সম্প্রতি গরুর গোস্ত ইস্যুতে এবং গো-হত্যা নিয়ে এক অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের ইতি টানতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলছেন, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য হিন্দু-মুসলমানকে একত্র হতে হবে, তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করা চলবে না। ভারতের সংবিধান নিশ্চিত করেছে যে, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব মানুষ সমান। বহুত্ববাদ হচ্ছে ভারতীয় সমাজের প্রাণ। অনেক মৌলবাদী চরমপন্থি হিন্দুর বিষয়টি পছন্দ না-ও হতে পারে; কিন্তু বিপুলসংখ্যক ভারতীয়ের কাছে ভারত হলো গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। বেশি দিন আগের কথা নয়, বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা এল কে আদভানি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিজেপি হিন্দুদের সমর্থন নিয়ে লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারে; কিন্তু মুসলমানদের সহযোগিতা ছাড়া দেশ পরিচালনা করা কঠিন। কথাটা খুবই বাস্তবসম্মত হলেও এর মধ্যে অভিসন্ধির কথাটা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, বিজেপি নেতারা তাদের কথায় আন্তরিক হলে বাবরী মসজিদ ভাঙার মত দুঃখজনক ঘটনা ঘটতো না। জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়েও সৃষ্টি হতো না অহেতুক বিতর্ক।

প্রকৃতপক্ষে নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি যা বলেছেন তা ১২৫ কোটি ভারতীয়দের মনের কথা। ভারতীয় মূল্যবোধের কথা। ভারতকে এখন যে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে সেটা হলো কৌশলগত সমর্থন-সংবলিত ভিশনের। বিশেষ করে গণতন্ত্র, সহিষ্ণুতা এবং সবার প্রতি সমান আচরণ করার ভিশন ও যুক্তিসমর্থিত সুবিশ্বাসের শক্তিশালী বাহন হতে পারে। এ ছাড়া ভারতে উগ্রবাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাতে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ছাড়া দেশটির শান্তি ও উন্নয়ন কোনোটাই অর্জন করা সম্ভব নয়। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা মুখে নানা কথা বললে কোন ভাবেই ইতিবাচক পথে হাঁটছে না। ফলে দেশটিতে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা দিনের পর দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যা কোন সভ্য সমাজে কোন ভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়।

একথা ঠিক যে, ভারতের ক্ষমতাসীনরা মুখে অনেক ভালো ভালো কথা বললেও তাদের রাজনীতির মূলধনই হচ্ছে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিম বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মূখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছেন। যা রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায় সহ সংখ্যালঘুদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এমতাবস্থায় দেশটির গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রাখতে হলে দেশটিতে উগ্রবাদের লাগাম টেনে ধরা দরকার। বন্ধ হওয়া দরকার ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। অন্যথায় দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে না।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।