আয়েশা সিদ্দিকা

প্রযুক্তির উৎকর্ষতা সভ্যতাকে যেমন বিকশিত করেছে; ঠিক তেমনিভাবে এর অকল্যাণের দিকটাও উপেক্ষা করার মত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত অপব্যবহার আমাদেরকে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে এখন সর্বাধিক অলোচিত বিষয় হলো সাইবার গ্যাং। সংঘবদ্ধ এ চক্রটি নানাবিধ অপরাধ প্রবণতার সাথে জড়িত। এদের অপতৎপরতার কারণেই সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না দেশের নারী সমাজও। যা এখন রীতিমত উদ্বেগজনক পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।

মূলত, ডিজিটাল যুগে সাইবার গ্যাং ও অপরাধীচক্র পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই অস্থির ও অশান্ত করে তুলেছে। এখন এদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন নারীরা। গবেষণা ও পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল, ফেক আইডি খুলে মানহানি এবং ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য অপব্যবহারের শিকার হওয়া মোট ঘটনার প্রায় ৬০ শতাংশই নারী, যার মধ্যে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে নারীদের ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করা এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা বা অবৈধ দাবি আদায় করা। ইন্টারনেটে নারীদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং অপমানজনক আচরণ করার প্রবণতা এখন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। লোভনীয় অফার বা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা অপব্যবহার করা হচ্ছে অবলীলায়। মানসম্মান ও সামাজিক মর্যাদার কারণে অনেক নারী সাইবার অপরাধের শিকার হয়েও আইনি পদক্ষেপ বা প্রতিবাদ করতে চান না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাবেক প্রেমিক, সহপাঠী কিংবা পরিচিতজনদের মাধ্যমেই নারীরা বেশি সাইবার সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। গোপনীয়তা রক্ষা (Privacy Settings) এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাবের কারণে এসব ঘটনা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় ফেসবুক বা অন্যান্য অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু এবং প্রোফাইল লক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। অপরিচিত কারও সাথে ইনবক্সে ব্যক্তিগত ছবি, ফোন নম্বর বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত তাগিদ এসেছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। কোনো সাইবার গ্যাং বা অপরাধীর দ্বারা হয়রানির শিকার হলে ভয় বা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোরও আবশ্যকতা অনুভূত হচ্ছে। যা বিশেষ করে নারী ভিকটিমদের জন্য খুবই উপযোগী ও কার্যকরী পরামর্শ।

মূলত, এক সময়ের পাড়া-মহল্লার কিশোর গ্যাংগুলো এখন সংগঠিত হচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জার চ্যাটরুমে। বর্তমানে দেশে অন্তত ২৩৭টি ‘কিশোর গ্যাং’ সক্রিয় রয়েছে; যার মধ্যে ১২৭টিই রাজধানী ঢাকায়। এরা এখন অপরাধকে ‘কনটেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করছে। মারধর, ছিনতাই বা অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ধারণ করে তা টিকটক বা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে আধিপত্য জাহির করছে। নারীদের টার্গেট করে দলবদ্ধভাবে কুৎসা রটানো বা ব্ল্যাকমেইল করার জন্য এরা ভুয়া আইডেন্টিটি বা ‘সোক-পাপেট’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।

বর্তমানে নারীদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে খুব সহজেই সাধারণ কোনো নারীর ছবি বা ভিডিওকে নিখুঁতভাবে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের সাথে জুড়ে দেয়া হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের তথ্য মতে, অনলাইনে থাকা ডিপফেক ভিডিওর ৯৮ শতাংশই পর্নোগ্রাফিক এবং এর লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের ৯৯ শতাংশই নারী। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রতিশোধ নিতে এ প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যার দিকেও ঠেলে দিচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সম্প্রতি নবম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে একদল কিশোর মিলে মারধর করে এবং সে মারধরের ভিডিও ধারণ করে টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। তদন্তে দেখা যায়, মূলত এলাকায় আধিপত্য জাহির করা এবং অপরাধকে ‘কন্টেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট অপরাধীচক্র। পুলিশ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেও সার্বিক পরিস্থিতির তেমন কোন উন্নতি হয়নি; বরং এদের অপতৎপরতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সাধারণ ছবি অপরাধীরা সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে সেগুলোকে আপত্তিকর অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে রূপান্তর করে। এ ভুয়া কন্টেন্টগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জার চ্যাটরুমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী প্রচণ্ড মানসিক ট্রমা ও সামাজিক গ্লানীর শিকার হন এবং দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেন। পুলিশে অভিযোগ করা হলেও ডিপফেক শনাক্ত করার কারিগরি দক্ষতার অভাবে অপরাধীকে ধরতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর ‘অ্যালগরিদম’ মূলত ব্যবহারকারীর এনগেজমেন্ট বা ভিউ বাড়ানোর জন্য তৈরি। কোনো বিতর্কিত বা আপত্তিকর কনটেন্ট যখন শেয়ার করা হয়, অ্যালগরিদম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিকে হাজার হাজার মানুষের টাইমলাইনে পৌঁছে দেয়। সাইবার গ্যাংগুলো এ কারিগরি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নারীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত ট্রলিং বা চরিত্রহননের কনটেন্ট দ্রুত ভাইরাল করে দিচ্ছে। টিকটকের পেজ বা ফেসবুকের রিকমেন্ডেশন ইঞ্জিন অনেক সময় নেতিবাচক কনটেন্টকেও আরো বেশি দৃশ্যমান করে তোলে, যা ভুক্তভোগীর মানসিক ও সামাজিক ক্ষতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং ইউএনএফপিএর সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী নারীদের প্রায় ৮৯ শতাংশই অন্তত একবার অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। যা রীতিমত উদ্বেগের।

পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের (পিসিএসডাব্লিউ) পরিসংখ্যান বলছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি হচ্ছে তরুণী; যার মধ্যে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীদের হার প্রায় ৭৪ শতাংশ। অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪১ শতাংশ ক্ষেত্রেই নারীরা ‘ডক্সিং’ বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ১৮ শতাংশ, ব্ল্যাকমেইলিং ১৭ শতাংশ, ভুয়া আইডেন্টিটি ৯ শতাংশ এবং সাইবার বুলিং ৮ শতাংশ নারীদের জন্য নিত্যদিনের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির সাথে সাথে সাইবার জগতের অন্ধকার দিকটিও সমান্তরালভাবে বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে গতানুগতিক সাইবার বুলিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে অপরাধ এখন ‘সাইবার গ্যাং কালচার’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির জটিল জালে আটকে পড়েছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এ ডিজিটাল পরিসর হয়ে উঠেছে এক অনিরাপদ ও উদ্বেগজনক রণক্ষেত্র। গত ১০ এপ্রিল থেকে দেশে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ কার্যকর হলেও এর প্রয়োগে রয়েছে নানা জটিলতা। আইনের ২৫ ধারায় ব্ল্যাকমেইলিং ও ডিপফেক অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের তুলনায় এর বাস্তবায়ন ধীরগতির। কারিগরি ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো ফেসবুক বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সার্ভার বাংলাদেশে না থাকা। অপরাধীরা ভিপিএন ও ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করায় তাদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া লোকলজ্জার ভয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ নারীই কোনো অভিযোগ দায়ের করেন না। ফলে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র অবলীলায় চালিয়ে যায় অপরাধ কার্যক্রম।

এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, ডিপফেক বা সাইবার অপরাধের শিকার হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগীদের উচিত আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত স্ক্রিনশট ও প্রোফাইলের ইউআরএল সংরক্ষণ করা এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করার পাশাপাশি পুলিশ সাইবার সাপোর্টে যোগাযোগ করা। ভুয়া অ্যাকাউন্ট রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই বাধ্যতামূলক করা উচিত। কিশোর গ্যাং কালচার ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কেবল আইন দিয়ে নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং দ্রুত বিচারব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ করে তুলতে হবে। অন্যথায় এ চক্রের অপতৎপরতা আগামী দিনে আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। মূলত, অনলাইনে নারীদের সংগঠিতভাবে হেনস্থা কেবল সাইবার অপরাধ নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক সহিংসতা। সংশ্লিষ্টরা ছোট বয়স থেকেই ডিজিটাল নৈতিকতা বা ‘নেটিজেন এটিকেট’ শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে এ বিষয়ে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষপাতি।

এ কথা কারো অজানা নয় যে, আমাদের তথ্য এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত হচ্ছে, কিন্তু এ তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স, এনক্রিপশন ও অ্যাক্সেস কন্ট্রোলের অভাব আমাদের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম এবং প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে এক নতুন ধরনের ’সাইবার গ্যাং কালচার’ গড়ে উঠছে। ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমগুলো কিশোর অপরাধ বা কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তৃতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। মূলত, সাইবার অপরাধীদের লাগামহীন অপতৎপরতার কারণেই নারীদের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ভুয়া আইডেন্টিটি এবং ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ অপরাধ দমনে আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা হলো কারিগরি ও আইনি অস্পষ্টতা। অতীতের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অস্পষ্ট ধারার কারণে যেমন বাকস্বাধীনতা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ ছিল, তেমনি বর্তমান এআই নীতিমালার খসড়াতেও প্রযুক্তিগত সুনির্দিষ্টতা ও প্রয়োগযোগ্যতার অভাব রয়েছে। একটি স্বাধীন ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ছাড়া এ সাইবার অপরাধগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার সিকিউরিটি, এআই এথিক্স ও ডেটা গভর্ন্যান্সবিষয়ক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত। উচ্চমানের গবেষণা ল্যাব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার অভাবে আমরা প্রায়ই বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি, যা আমাদের জাতীয় ডেটা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই এ বিষয়ে আমাদেরকে অধিকতর সচেতন হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। অন্যথায় আগামী দিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কোন ভাবেই সহজসাধ্য হবে না।

মূলত, পুরো দেশই এখন সাইবার অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আর এ অপরাধী চক্রের প্রধান ভিকটিমে পরিণত হয়েছেন দেশের নারী সমাজ। নানাভাবে তাদের হয়রানী ও চরিত্র হনন করা হচ্ছে। ফলে তারা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। ফলে তারা আত্মহত্যার মত অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমতাবস্থায় দেশে সাইবার অপরাধীদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে সাইবার নিরাপত্তা আইনের হালনাগাদ করে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তার জন্য নিতে হবে জরুরি ও বিশেষ পদক্ষেপ। অন্যথায় সামাজিক বিপর্যয় রোধ করা যাবে না।

লেখক : শিক্ষিকা ও প্রাবন্ধিক।