স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরী উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা। গতকাল শনিবার আসর নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আব্দুল মালেক। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ বইমেলা চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা যাবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ আয়োজিত এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠক, লেখক, প্রকাশক ও ইসলামি সাহিত্যপ্রেমীদের অংশগ্রহণ থাকবে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও ইসলামি বইয়ের প্রকাশকসহ মোট ২০৬টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মেলা বাস্তবায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় থাকছে ১৪৪টি স্টল। এসব স্টলে শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে।

বাংলাদেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মিসর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। ফলে বায়তুল মোকাররমের এ আয়োজন দেশী-বিদেশী ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনার বড় সমাবেশে পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। মেলায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সীরাত, ইসলামী দর্শন, ইতিহাস, গবেষণা ও ধর্মীয় সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিভিন্ন গ্রন্থের অনুবাদের পাশাপাশি ইসলামের নানা বিষয়ে মৌলিক ও গবেষণাধর্মী বইও থাকবে। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকবে ধর্মীয়, নৈতিক ও ইসলামি শিক্ষামূলক বিভিন্ন গ্রন্থ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মেলার মাধ্যমে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে পবিত্র কুরআন, হাদিস ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসলামের শান্তি, সাম্য, মানবিকতা ও কল্যাণের বার্তাও এ আয়োজনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। থাকছে সাংস্কৃতিক আয়োজন ও শিশু চত্বর: মাসব্যাপী এ আয়োজনে শুধু বই কেনাবেচা নয়, প্রতিদিন লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে ইসলামি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনেরও আয়োজন থাকবে। মেলায় শিশুদের জন্য আলাদা শিশু চত্বর, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া কর্নার ও তথ্যকেন্দ্র রাখা হচ্ছে। নারীদের জন্য থাকবে পৃথক বসার ব্যবস্থা। আয়োজকেরা বলছেন, দেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামি প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণের ফলে এক জায়গায় বিভিন্ন প্রকাশকের গ্রন্থ দেখার ও সংগ্রহের সুযোগ পাবেন পাঠকেরা। এ কারণে মেলায় ব্যাপক জনসমাগম হবে। মেলা সফল করতে প্রকাশক, লেখক, পাঠক ও দর্শনার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।