চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রতিশ্রুতির পর পেরিয়ে গেছে প্রায় ছয় মাস। এর মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা কমার বদলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। সোমবার (৩১ আগস্ট) হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলার পর জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে সরাসরি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ বলতে রাজি নন ট্রাম্প। বরং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে দাবি করে দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আল জাজিরার প্রতিবেদক ম্যানুয়েল রাপালো জানান, হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথের কাছে লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী সেগুলো লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করার দাবি করেছে।
এরপর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। চলমান সংঘাত সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। বরং ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন কার্যত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির নিজস্ব মুদ্রা নেই, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বড় অংশ নিহত এবং সামরিক সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতকে অবশ্য ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখতে নারাজ। বরং তার দাবি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ভালোভাবেই এগোচ্ছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তার মতে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সহযোগিতায় প্রতিরাতে গড়ে অন্তত ৩০টি জাহাজ ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।