সংগ্রাম ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে ভূগর্ভস্থ সামুদ্রিক মাইন যেন মোতায়েন করা না হয়, সেই উদ্দেশ্যে ইরানের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। গত জুলাইয়ের শেষভাগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রণালিতে দুই সপ্তাহের মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত করার পর ইরানে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা। এপি, অ্যাক্সিওস, মেহের নিউজ, আল জাজিরা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বাহিনীকে হরমুজ প্রণালিতে মাইনবাহী রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিতে দেখে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি লঞ্চারে আঘাত হানে। আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলায় ২ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন। সেন্টকম রোববার রাতে এই হামলাকে মাইন স্থাপনকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি ‘সীমিত ও নিখুঁত পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা প্রণালিতে ‘আসন্ন হুমকি’ তৈরি করেছিল। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মূলত ইরান এই হুমকি তৈরি করেছিল এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাবিক, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিশ্ব বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ রক্ষার্থে তা নির্মূল করেছে।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, মার্কিন বাহিনী এলাকাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মুক্ত বাণিজ্য বজায় রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।

আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবহর ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে একযোগে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি সেনাবাহিনী। গতকাল সোমবার প্রথম প্রহরে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দেশটির ঐতিহাসিক লারাক দ্বীপে সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসন এবং এতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য ও সাধারণ ইরানি নাগরিকদের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর থেকে জারি করা বিবৃতিতে আল মিনহাদ ঘাঁটিকে বিদেশী বাহিনীর একটি প্রধান লজিস্টিকস ও বিমান পরিবহন হাব হিসেবে অভিহিত করা হয়। মার্কিন অবস্থানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধনের লক্ষ্য নিয়ে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল বলে সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক হুমকি সম্পূর্ণ দূর না হওয়া পর্যন্ত এবং দেশের ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষায় ইরানি বাহিনী দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে। আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিটি শহীদের রক্তের বদলা নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসি’র হামলা

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চারে বোমা হামলার পর তারা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-র বরাত দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন ইরানি যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন।

সিএনএন’র খবরে বলা হচ্ছে, এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের রকেট লঞ্চারে হামলা চালানোর পর রোববার ইরান মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যা এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম উত্তেজনা বৃদ্ধি।

ওই কর্মকর্তা জানান, জর্ডানে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায় নি।