ড্রোন হামলার একদিন পর নিজেদের একটি প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কৌশলগত যাকার দ্বীপ ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো দখল করে নিয়েছে। মোখা বন্দরনগরী দখলের পরপরই হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের একাংশ এখন হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

হুথিদের কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখলের ঘটনায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিপিং লেন বা নৌপথ বাবে এল-মান্দেব প্রণালীর পাশে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই হুথিদের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক অর্জন। এই অগ্রাভিযান যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার ইরানি কৌশলকে আরও জোরালো করতে পারে।

এর আগে হামলার শিকার হওয়ার পর পূর্ব-পশ্চিম বা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানায় সৌদি আরব। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই বন্ধ রাখাকে ‘একটি সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাক থেকে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন এই হামলা চালিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটি জানায়, ইরাকি সরকারকে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে’ তারা এই মুহূর্তে কোনও পাল্টা জবাব দেবে না।

এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আলী আল-জাইদি মায়সান প্রদেশের অপারেশন কমান্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছেন।

শনিবার ভোরে সরকাররের মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো এই প্রদেশের একটি স্থান থেকেই পরিচালিত হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সাথে একাধিকবার ফোনে কথা বলে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক সাহায্য চেয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না, তবে সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিয়ে যাবে।