বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “আওয়ামী লীগের ডিএনএর সঙ্গে খুনের বিষয়টি জড়িত।” তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি সহ্য করতে পারে না এবং দলটির পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আজকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল উঁকি দিচ্ছে। রক্তপিপাসু আওয়ামী লীগ হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, শিশুদের জীবন কেড়ে নিয়েছে—তাদের বিচার হবে না? তাহলে তারা ফিরে আসলে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের কী হবে? কেউ তো রেহাই পাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এই দলটির ডিএনএর সঙ্গে খুনের বিষয়টি জড়িত। তারা নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করতেও দ্বিধা করেনি। তারা কি আবারও ফিরে এসে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে? আমরা কি সব ভুলে গেছি? হাজারো লাশের রক্ত ডিঙিয়ে তারা আবার রাজনীতি করবে?”

আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্বের কোথাও পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান ঘটেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক কারিগরি ত্রুটির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “আজকে একটার পর একটা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে। এগুলো সব নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না, সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।”

দেশের গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ স্বাভাবিকভাবে আসতে না পারায় এর প্রভাব পড়ছে। মহেশখালীর রিগ্যাসিফিকেশন ব্যবস্থাতেও ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এ ঘটনায় দ্রুতগতিতে কাজ করছে। এ ধরনের ঘটনা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মানুষের উপকারে সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মরুকরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং ভূগর্ভস্থ পানিতেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ কারণে বর্তমান সরকার আবারও খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

১২ দলীয় জোটের ভূমিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, জোটটি সব সময় দেশের পক্ষে ও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কঠিন পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষার দায়িত্ব নিয়েও তারা কাজ করেছে। বিরোধী দল সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের সমালোচনা করবে, তবে অপ্রাসঙ্গিক কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে রিজভী বলেন, “আমাদের সমালোচনা থাকবে। কিন্তু সেটা যাতে বাকস্বাধীনতার সীমা অতিক্রম না করে।” ইসলামী উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক মা-বাবাকে তাঁদের সন্তানেরা যথাযথভাবে দেখাশোনা করেন না। এ বিষয়ে যে আইন করা হয়েছে, তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেন অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, তাঁরা সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন এবং বন্ধুর মতো সরকারের সমালোচনা করবেন। তবে আজকের বিরোধী দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন পারভেজ, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লিংকন, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান এমএ বাশার, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন, নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুল মান্নান ও ইসলামী ঐক্য জোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীনসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।