মিয়ানমারের দ্বিতীয় ব্যস্ততম মান্দালয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর দুই দিনের জন্য সব ধরনের ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানবন্দর এলাকা লক্ষ্য করে ছয়টি ‘সুইসাইড ড্রোন’ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার। হামলায় কেউ হতাহত না হলেও বিমান চলাচলের সময়সূচি ব্যাহত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর শুক্রবার ও শনিবার বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দর ভবন থেকে কিছুটা দূরে হামলার ঘটনা ঘটলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুরো বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য বিমানবন্দরটি রোববার পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।
তাদা-উ এলাকায় অবস্থিত মান্দালয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগকেন্দ্র। বিমানবন্দরের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুন, ব্যাংকক, চিয়াং মাই ও কুনমিংসহ বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হয়।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ছয়টি ‘সুইসাইড ড্রোন’ পাঠানো হয়। এ হামলার জন্য গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে সরকার। দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত বিভিন্ন ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস’ বা পিডিএফ গোষ্ঠী বর্তমানে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অংশ।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় কোনো বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও রানওয়ে, যানবাহন বা মানুষের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোনগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ করা হয়েছে বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটি বেসামরিক পরিবহনকেন্দ্র হলেও বিভিন্ন বিমান হামলা পর্যবেক্ষণকারী সূত্রের মতে, এর রানওয়ে সামরিক বিমান ওঠানামার জন্যও ব্যবহৃত হয়। এএফপির সাংবাদিকরাও অতীতে মান্দালয় বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে সামরিক বিমান উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মান্দালয় দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পরিবহনের একটি প্রধান কেন্দ্র। শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বেসামরিক যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।