সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রথম দিনে প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক মোট ২৫০ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন। এদিন বড় ধরনের কোনো জটিলতার খবরও পাওয়া যায়নি।
এর আগে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জমা পড়ে।
এর মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিন ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা ফেরতের চাহিদা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়।
প্রথম দিন টাকা ফেরতের আবেদন করা গ্রাহকদের সোমবার ব্যাংকে আসতে বলা হয়েছিল। তবে তাদের একটি অংশ ব্যাংকে এলেও টাকা নেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আপাতত আমানত ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, মেয়াদি আমানতের টাকা এখন তুলে নিলে মুনাফা পাওয়া যাবে না। ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমানত নিরাপদ থাকার আশ্বাস পাওয়ার পর অনেকে নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করা সব গ্রাহকের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে সবাই টাকা নিতে আসেননি। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে আমানত চালু রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পরই তা পুনরায় ব্যাংকে জমা করেছেন।
আরও পড়ুন: সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল, মানতে হবে এনবিআরের ৩ শর্ত
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার গ্রাহক মশিউর রহমান জানান, তিনি টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে জানান, এখন টাকা তুললে মুনাফা পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে আমানত নিরাপদ থাকার বিষয়েও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। এরপর তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে মেয়াদি আমানত পূর্ণ হওয়ার পর মুনাফাসহ টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখার গ্রাহক মোহাম্মদ শাহাদাত জানান, বাবার চিকিৎসার জন্য তার টাকার প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন টাকা তুলতে না পেরে তিনি ভোগান্তিতে ছিলেন। প্রথম দিন আবেদন করার পর সোমবার টাকা ফেরত পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় কিছু গ্রাহক টাকা তুলেছেন। তবে মুনাফার বিষয় নিয়ে অনেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
টাকা ফেরতের পাশাপাশি সোমবার থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তরের কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর এতে ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।
আরও পড়ুন: ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে কর আদায় নয়: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।