সংগ্রাম ডেস্ক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেনের সাথে সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দ গতকাল রোববার বিকেলে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তারা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন, এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ব্যাংকের প্রশাসক নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত বিদ্যমান সমস্যার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে জানান, তিনি বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলোচনা করবেন।

পরে ব্যাংকের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, অন্য সব ব্যাংকের মতোই ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।

তিনি জানান, এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত যেই মামলা আদালতে চলমান সেই মামলা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে এসময় ইসলামী ব্যাংক এবং রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পরিবর্তন করার অর্থ হচ্ছে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ইসলামী ব্যাংক মামলা থেকে সরে আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বৃহৎ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ব্যতিত একজন প্রশাসক দিয়ে চলতে পারে না। অনতিবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে সৎ, যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ সচেতন গ্রাহক ফোরামের উত্থাপিত ৭ দফা দাবি পূরণ না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্বে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবি সমূহ হলো

১. পেশাদার পর্ষদ গঠন: অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন।

২. প্রকৃত মালিকানা হস্তান্তর: ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে ব্যাংকের যে বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। ব্যাংকটিকে কোনো লুটেরা বা রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের শিকার হতে না দেওয়া।

৩. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন: ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

৪. স্থিতিশীলতা ও অপপ্রচার রোধ: ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকা। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার রোধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

৫. লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত: বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা। অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকের দেনা পরিশোধ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আইন দ্রুত সংশোধন করা।

৬. লুটেরাদের পুনর্বাসন রোধ: ব্যাংকে লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করতে ১৮/ক ধারা বাতিলের উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর করা এবং এ ধরনের অপকর্মকারীদের আজীবন ব্যাংক ও অর্থনৈতিক খাতে অযোগ্য ঘোষণা করা।

৭. সংসদীয় বক্তব্য প্রত্যাহার: জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের দেওয়া অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করা। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য বোর্ড গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

ফোরামের নেতারা বলেন, গ্রাহকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পিছপা হবেন না। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ দুই মাসেও বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আমানতের সুরক্ষার দাবিতে গ্রাহকেরা আন্দোলন করলে সেখানে রাজনীতি খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।