আজ ৮ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘আর অদৃশ্য নয়: যাদের রোগ ধরা পড়েনি তাদের খুঁজে বের করি, অবহেলিতদের পাশে দাঁড়াই’। দিবসটি ঘিরে বাংলাদেশেও থ্যালাসেমিয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও সচেতনতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘জাতীয় থ্যালাসেমিয়া জরিপ-২০২৪’ অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১১.৪ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়া ও হিমোগ্লোবিন-ই রোগের বাহক। অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে ত্রুটিপূর্ণ জিন বহন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জরিপটি ৬৪ জেলা ও ৪৫৪ উপজেলার ১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৮ হাজার মানুষের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে করা হয়।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার ৪০ জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৫ লাখ ৫২ হাজার রোগী রয়েছে। যাদের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়মিত রক্তসঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। শরীরে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ত্রুটির কারণে অক্সিজেন পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রোগীদের মধ্যে দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, পেট ব্যথা ও শারীরিক বৃদ্ধিতে বিলম্বের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা জানান, সাধারণ মানুষের রক্তকণিকা যেখানে প্রায় ১২০ দিন টিকে থাকে, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৩০ দিন। বাবা-মা দুজনই বাহক হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ এবং বাহক হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ। চিকিৎসা না পেলে হিমোগ্লোবিন মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে হৃদপিণ্ড, যকৃতসহ বিভিন্ন অঙ্গ বিকলের ঝুঁকি তৈরি করে।

তারা আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি সম্পূর্ণ জিনগত। সাধারণ রক্ত পরীক্ষা ও হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আগে স্ক্রিনিং করা এবং দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে এড়ানো গেলে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ সম্ভব।

এছাড়া গর্ভাবস্থায় প্রিনেটাল টেস্টের মাধ্যমে শিশুর থ্যালাসেমিয়া আছে কি না আগেই জানা যায়। যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।