বাগেরহাট জেলা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যত দক্ষতার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবে, দেশ তত সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। সংসদে যেখানে সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানে আমরা সহযোগিতা করছি, আর যেখানে বিরোধিতা প্রয়োজন সেখানে গঠনমূলক বিরোধিতা করছি।

গতকাল শুক্রবার সকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, দমন-পীড়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কতটা সফল হয়েছে, সেই রায় জনগণই দেবে। এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। অথচ ‘ভূতুড়ে বিলের’ কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারী দল ও বিরোধী দল এখনো আমরা দুই মেরুতে অবস্থান করছি। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সেই রায়কে অপমান করতে দেওয়া হবে না।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন,গণমাধ্যম কোনো কালেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিল না, এখনও স্বাধীন আছে বলে আমি মনে করি না। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,আমরা মনে করি না এখনই তারা রাজনীতিতে আসুক। এই দেশের রাজনীতিকে তারাই ধ্বংস করেছে। তারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে, অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে, আর গুম হওয়া অনেকেই এখনো ফিরে আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসবে? তিনি আরও বলেন,যে দল অসংখ্য মানুষকে গুম করেছে, হত্যা করেছে, বহু মানুষকে পঙ্গু করেছে এবং একটি পুরো প্রজন্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের মধ্যে এখনো কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। শুধু দল ভারী করার জন্য তাদের রাজনীতিতে আনা অন্যায় ও জঘন্য অপরাধ।

সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক সময় সংসদে মারামারি হয়েছে, ফাইল ছুড়ে মারা হয়েছে, একে অপরের দিকে তেড়ে যাওয়া হয়েছে এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরা সে ধরনের সংসদ চাই না। আমরা একটি সভ্য ও মর্যাদাপূর্ণ সংসদ দেখতে চাই। প্রথম দিন থেকেই বিরোধীদল হিসেবে আমাদের ভূমিকা গঠনমূলক ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো উস্কানিতেই আমরা সেই অবস্থান থেকে সরে আসব না।

বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম সহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বাগেরহাটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান বাগেরহাট কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জেলা জামায়াতের সদস্য(রুকন) সম্মেলনে যোগ দেন। পরে ষাট গম্বুজ মসজিদে জুমার নামায আদায় করে, সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে বিকালে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।