শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা সকল ক্ষেত্রে ৮ ঘন্টা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যথাযথ ওভারটাইম দেওয়া হয় না। একটি স্বাধীন দেশে কেন আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হবেÑএর জবাব সরকারের কাছে জানতে চাই। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে গাজীপুর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (পাইলট) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্যে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাজীপুর মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত শ্রমিক দায়িত্বশীল সমাবেশে গাজীপুর মহানগরীর সভাপতি হোসেন আলীর সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর সাধারন সম্পাদক ফারদিল হাসান হাসিব ও জেলা সহ-সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন এর যৌথ সঞ্চালনায়

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন, কবির আহমদ, কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক লসকর মোঃ তসলিম মহানগরীর উপদেষ্ঠা অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, মহানগরীর সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।

সমাবেশে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ইসলামী শ্রমনীতির প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “শ্রমিকরাই দেশ গঠনে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ তারাই আজ সর্বক্ষেত্রে অবহেলা-অবজ্ঞার শিকার। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৪টি জাতীয় বাজেট পাস হলেও কোনো সরকার আন্তরিকভাবে শ্রমিকবান্ধব, শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানমুখী বাজেট প্রণয়ন করেনি। শ্রমিক তার ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য থেকে আজও বঞ্চিত।

তিনি বলেন, আজও ন্যায্য মজুরির সমস্যার সমাধান হয়নি। নির্বাচনের আগে নেতারা শ্রমিকবান্ধব নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা ভুলে যান। ফলে শ্রমিকদের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। অতীতে অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা হয়েছে, গাজীপুরে শ্রমিকরা গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবনও দিয়েছেন। দেশের জিডিপি ও রপ্তানি আয়ে পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও সেই শ্রমিকদেরই বেতনের দাবিতে রাজপথে নামতে হয়। আমরা ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি করেছিলাম, কিন্তু যোগসাজশের মাধ্যমে তা সাড়ে ১২ হাজার টাকায় নির্ধারণ করে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আরও বলেন, কৃষক-শ্রমিক রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে, কিন্তু তারা ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা পায় না। দেশে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। শ্রমিক আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্য নেতৃত্বকেও আত্মসমালোচনা কাডগড়ায় দাড় করাতে হবে। নেতারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। নেতাদের পকেট মোটা হয়েছে, কিন্তু শ্রমিকের পেট শুকিয়ে পিঠের সঙ্গে লেগে গেছে। নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই এ দেশের শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছে।” প্রেসবিজ্ঞপ্তি