স্টাফ রিপোর্টার

সরকারের ছয় মাসে দেশে একের পর এক সংকট তৈরি হয়েছে এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, সার ও জ্বালানি সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে।

গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকে এসব অভিযোগ করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, সরকারের ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনার কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে। সরকারের ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তারা বলেন, দেশে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে সার সংকটে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তবে সরকার এসব সংকট স্বীকার না করে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

নেতারা বলেন, সরকারের ১৮০ দিনই ছিল অব্যবস্থাপনার। দেশ পরিচালনায় সরকারের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তা অগ্রাহ্য করেছে।

তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব সংকট সমাধান এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করাই তাদের আন্দোলনের অন্যতম দাবি।

এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর না করে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার ঘোষণাও দেন তারা। রাজধানীতে জনসমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের সূচনা হবে এবং পথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান নেতারা।