কবির আহমদ, সিলেট থেকে : বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে রায় দিয়েছে। প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। গণভোটের রায়কে আমরা অপমান করতে দেবো না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রাপ্তে পৌঁছবে। বাংলাদেশে আমরা আর কোন ফ্যাসিবাদ চাই না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে তাড়িয়েছি, ফ্যাসিবাদ কায়েম করলে আপনাদেরও জনগণ তাড়াবে। জনগণ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না।

গতকাল শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে ১১ দলীয় ঐক্য সিলেট জেলা ও মহানগর আয়োজিত সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে জনতার ঢল নেমেছিল। স্মরণকালের এ ঐতিহাসিক বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উপরোক্ত কথা বলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ দুপুর ২টায় শুরু হয়। সমাবেশে বিভাগের চার জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দেশব্যাপী ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে আলিয়া মাদরাসা মাঠে। বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে জনতা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।

জামায়াত আমীর বলেন, আমরা দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি, তারাও মজলুম ছিলেন, আজ যারা সরকারে আছেন। তারা আজ ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সবক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে চাচ্ছেন। আমরা মানবো না। আমরা কিছুতেই মানবো না। ভালোয় ভালোয় দাবি মেনে নিন। এদেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলী খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কীভাবে হাঁটতে হয়। আমরা আমাদের শহীদদের সাথে বেঈমানি করবো না। জুলাইযোদ্ধাদের সাথে বেঈমানি করবো না। ১৮ কোটি মানুষের সাথে বেঈমানি করবো না। সবাই প্রস্তুত থাকুন। ঢাকা থেকে ডাক আসবে। দাবি আদায়ে সবাই তাতে অংশ নিতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেকমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

সিলেটের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বহু ন্যায্য দাবি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে এখনও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়নি। এটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানন্দরে রূপান্তর করুন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্য যদি ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে এসব দাবি পূরণ করা হবে।

সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল ও সদস্য সচিব কামরুল আরিফ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম সিলেট মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল গাফফার ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, এবি পার্টির মহানগর আহ্বায়ক ওমর ফারুক, জাগপার মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়া করেন ক্বারী হেলাল আহমদ।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও জেলা উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমদ, জাগপার কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব জিয়াউর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট জেলা সভাপতি জুনেদ আহমদ, জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা এমরান আলম, নেজামে ইসলাম পার্টির জেলা সভাপতি মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম সিলেট জেলা সভাপতি হাফিজ মাওলানা ইকবাল হুছাইন, লেবারপার্টর সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। সেখানে সরকার ছাত্রদের, তরুণদের এবং জনগণকে ভয় পাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের সরকার ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। যেই দেশে জুলাই বিপ্লবের ফলে সরকার পতন হয়েছিল এবং নির্বাচনের পরবর্তীতে যে এই সরকার এসেছে, আমরা আশা করেছিলাম এই নতুন সরকার জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, ছাত্র-তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম তারা ক্ষমতায় এসেই জনগণের রায় অবজ্ঞা করা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে যে গণরায় দিয়েছে সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে, সেই রায়কে তারা অবজ্ঞা করছে। যেখানে ভারতের সরকার তার ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের মুখে পরাজিত হয়েছে, মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা দেখলাম বিএনপি নিজের দলের ভিতর কোন সংস্কার আনলো না এবং রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে অন্যতম ঐক্যমত্য, সেই ঐক্যমত্যও মেনে নিল না। যদি তারা এই পথে হাঁটে, জুলাই বিপ্লবকে ভুলে যায়, ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনকে ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকারকেই ভোগ করতে হবে। বিএনপি সংস্কার বনাম সংশোধন বিতর্ক নতুন করে শুরু করেছে। আমরা মনে করি এই বিতর্কের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমরা ঐকমত্যের মাধ্যমেই এই বিতর্কের অবসান করেছিলাম। সেই সময় বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচিত হওয়ার পরে তারা সংস্কার কি সেটা ভুলে গিয়েছে। তাদের ৩১ দফাতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ থাকলেও, নির্বাচিত হওয়ার পরেও সংস্কার কি তারা ভুলে গিয়েছে। তারা এখন শুধু সংশোধন চিনে, আর কিছু চিনে না। বিএনপি সমর্থিত কিছু দালাল বুদ্ধিজীবী, তারাও প্রচার করছে দেশে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের মানুষ সংস্কারের জন্যই জীবন দিয়েছে। ইভেন এই বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে সংস্কারের মূলা ঝুলিয়ে, ৩১ দফার মূলা ঝুলিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমাদের এই ঐক্য শুধুমাত্র ক্ষমতার ভাগ বাঁটোয়ারার জন্য হয়নি। শুধুমাত্র ১১টি রাজনৈতিক দলের ভাগ্য গড়ার জন্য আমরা ঐক্য করি নাই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলন থেকে আমাদের এই ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছে। সুতরাং আমি সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। সুতরাং যতদিন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমরা জুলাই বিপ্লব যারা করেছি। তারা দীর্ঘ ১৭ বছর পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছি, আমাদের নেতা-কর্মীরা গুম-খুন-হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। মনে রেখো আমরা শহীদের স্বপ্ন, যুদ্ধাহত জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ ছাড়া রাজপথ থেকে বিচ্যুত হতে পারবো না।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম সমন্বয়ক সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের মাত্র ৫ মাস হয়েছে। এসময়ে আন্দোলন হওয়ার কথা না। কিন্তু, কেন আমাদের ধাপে ধাপে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। নির্বাচনের প্রথম প্রহরে আবার ভোটের অধিকারকে হত্যা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদকে আমরা সকল সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, তারা তা হতে দিচ্ছে না।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন বলেন, গৌড় গোবিন্দ যেরকম সিলেট থেকে পালিয়েছে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে সেরকম এ সরকারকেও পালাতে হবে। জুলাই সংস্কারকে সামনে রেখে সংবিধান বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমরা দেশের যেখানেই গিয়েছি, সেখানকার বাসিন্দারা গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়ন চায়। আমাদের মনে হচ্ছে আমাদের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী বুঝেন না, বিএনপি আজকে সংস্কার বুঝে না। সোজা আঙুলে যদি ঘি না উঠে, তাহলে আঙুল বাঁকা করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ২ সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এই ১৭ বছরে বিএনপির যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারা ভাবছে যদি ১১ দলের বিপক্ষে ৩ মাস কথা বললে আমরাও সুযোগ পেতাম। সিলেটের এক আলেম তাকে আলেম না জালেম বলবো, বুঝতেছি না। আপনি একজন আলেম মানুষ, আপনিতে একজন হিন্দুরও লুঙ্গি খুলতে পারেন না। অথচ জামায়াতের লুঙ্গি খুলতে চান। দেশের জনগণ ১১ দলকে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু চক্রান্ত করে তারা কিনে নিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং করে মাওলানা মামুনুল হক ও হামিদুর রহমান আযাদকে পরাজিত করা হয়েছে। গণভোটের গণরায় নিয়ে গড়িমসি করলে আমরা বসে থাকবো না।

আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা দেখেছি ২ বার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে এই জাতিকে খেসারত দিতে হয়েছে। আপনারা আর সাহস করবেন না। আওয়ামী লীগ সিলেটে ফিরবে না, ঢাকায় ফিরবে না। আমরা সরকারি দলকে পরিষ্কার করে বলছি, যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন, তাহলে আবার ১৭ বছরের জন্য রোজা রাখার প্রস্তুতি নেন। আবার রোজা রাখতে হবে। গত দেড় বছর আপনারা নির্বাচন নিয়ে যতটা উদগ্রীব ছিলেন, বিচারের ক্ষেত্রে একেবারে উদাসীন। যে দল জাতির ওয়াদা রক্ষা করতে পারে না, তারা কিভাবে এ জাতিকে এগিয়ে নিবে। আপনি তো আপনাকে বিশ্বাস করেন না, দলকে বিশ্বাস করেন না, জাতি কিভাবে আপনাকে বিশ্বাস করবে।

জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, সড়কপথে সিলেট আসার পথে ভালো নেই আমি। আবার ঢাকা যেতেও ভয় লাগছে। ম্যানেজ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর ৫ টা মাস চলে গেল, অবহেলিত সিলেট অবহেলিত রয়ে গেল। যারা ৫ মাসে পারে নি, তারা ৫ বছরেও পারবে না। বাংলাদেশের ১৭ টি জেলা দিয়ে উগ্রবাদী মোদি পুশইন করছে। কে নাকি ঘোষণা দিয়েছে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসবে। সে আসলে তাকে বাধা দিয়েন না, আসতে দিন। এই সরকার বিচার করতে না পারলেও আমরা করবো। ভারতেও আন্দোলন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরে তিনি একা ফিরবেন নাকি মোদিকেও নিয়ে ফিরবেন- জাতি আশঙ্কা করছে। ইলিয়াস আলীর মতো মানুষকে আর ভারতের কবলে গুম হতে দেখতে চাই না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে এক দফার সরকার পতন হবে। জুলাই না থাকলে ওই সরকারও থাকবে না। বিজয়ের পদযাত্রা শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বলেন, বিএনপির গোলামীর ফলে এ জাতিকে ১৫ বছর স্বৈরাচারের কবলে পড়তে হয়েছে। এখন তারা জনগণের ম্যান্ডেট মানতে রাজি না। তারা জনগণের গণরায়কে অবহেলা করছে। আমরা বলবো এই গণরায় মেনে নিন। নাহলে ভালো হবে না।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারের উদ্দেশে আমি কিছু কথা বলতে চাই। তিনিও চান, আমরাও চাই- একটা সুন্দর বাংলাদেশ। এটা তখনই সম্ভব যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, যখন দুর্নীতি বন্ধ হবে, সন্ত্রাস বন্ধ হবে, চাঁদাবাজ বন্ধ হবে। এই জিনিসগুলো কিন্তু নিত্যদিনের ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- আপনি যখন বিভিন্ন পদে কাকে পদায়ন করেন, তার ২০ বছর আগের ইতিহাস ঘেটে দেখবেন। কিভাবে সে দুর্নীতি করেছে, সে কোন কোন দায়িত্ব পালন করেছে, সে দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সাথে কিভাবে বেইমানি করেছে। এই জিনিসগুলো যদি আপনি সুন্দরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না দেখেন, তাহলে আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী হবেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে। আপনি বেগম জিয়ার সন্তান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান। জিয়াউর রহমান কি জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন? ‘আই, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়া, ডিক্লেয়ার মাইসেলফ অ্যাজ দ্য প্রোভিশনাল হেড অফ দ্য স্টেট।’ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতির দুর্যোগ দিনে জনগণকে দিক নির্দেশনা দিয়ে মানুষের মধ্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মধ্যে ভালোবাসার স্থান লাভ করেছেন। আপনি দালালদের কথা না শুনে, চাটুকারদের কথা না শুনে, নিজের বিবেক দিয়ে যে সংস্কারের কথাগুলো জনগণ বলছে, এই সংস্কারগুলো করেন।

তিনি আরও বলেন, আপনি একটা জিনিস বুঝতে পারছেন না-জামায়াতের রাজনীতিকে ১৯৭৫ সালের পর থেকে আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। আজকে তাদের যে শৃঙ্খলা, তাদের দলের মধ্যে যে রকম ঐক্য, সশস্ত্র বাহিনীতেও এরকম নাই। আজকে যদি তিনজন নেতা একসাথে হয়ে যায় শফিকুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে- আমাদের ছোট ভাই নাহিদ এবং মামুনুল হক সাহেব-তিনজন যদি একসাথে হয়ে যায়, এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে এটা অনিবার্য। এটা মনে রাখবেন। কারণ, তারা যেকোনো সময় ২০ লাখ, ৩০ লাখ লোকের সমাবেশ ঢাকায় ঘটাতে পারবে। টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে, সায়দাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে। আপনি কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে। আপনি অন্যদের দ্বারা প্ররোচিত হবেন না। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন, দেশের জনগণের কথা চিন্তা করেন।