তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিরসনে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, ‘কোনো দলের একক দাবি নয়; জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দাবিতেই এই লংমার্চ।’ এসব দাবি বাস্তবায়নে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি সংস্কারের জন্য গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন না করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনের সীমাহীন দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগণের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি বারবার জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বরং জনগণের অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বিভিন্ন আইন ও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, সরকারের একগুঁয়েমির কারণে সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রেখেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে এসব দাবি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; এগুলো জনগণের ন্যায্য দাবি।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য জনসভা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা এবং জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আবু জাফর কাসেমীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
লংমার্চে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পথসভাগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নেতৃবৃন্দ।
১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ সফল করার জন্য সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।