উন্নয়নের কারিগর শ্রমিকরাই আজ অধিকারহীন,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁদের সবচেয়ে বেশি অবদান থাকলেও জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) গোপালগঞ্জের আল হেরা মডেল মাদ্রাসায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গোপালগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন অনিবার্য’—এই স্লোগানে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি সমশের আলী মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম এর সঞ্চালনায়
বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও অঞ্চল পরিচালক আজহারুল ইসলাম, অঞ্চল উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আজমল হুসাইন সরদার, জেলা প্রধান উপদেষ্টা এম এম রেজাউল করিম ও জেলা উপদেষ্টা আল মাসুদ খান।
প্রধান অতিথি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কারণেই আজ আমরা কর্মসূচি করতে পারছি। সেই আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।”
তিনি বলেন, ইসলাম শ্রমিকদের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকদের সঙ্গে সদাচরণ, তাদের যথাযথ খাবার দেওয়া এবং কাজের ন্যায্য মজুরি দ্রুত পরিশোধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের শ্রমিকেরা অনেক সময় ঘাম ঝরিয়েও ন্যায্য মজুরি পান না।
তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জ কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষকেরা প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করেন। তাদের শ্রমেই দেশের খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হয়। কিন্তু সেই কৃষকই উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
পোশাকশ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাকশ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ কয়েক বছর আগে নির্ধারিত মজুরির সঙ্গে বর্তমান বাজারদরের কোনো সামঞ্জস্য নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও শ্রমিকদের আয় সে অনুযায়ী বাড়েনি।
আতিকুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা হওয়ার কথা থাকলেও অনেক শ্রমিককে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। অনেকের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নেই, চাকরির নিশ্চয়তা নেই। যখন-তখন ছাঁটাইয়ের শিকার হচ্ছেন তারা।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়নকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগোলেও শ্রমিকরা যদি অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত থাকেন, তাহলে উন্নয়নের সুফল সর্বস্তরে পৌঁছেছে বলা যাবে না।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি একটি আদর্শিক শ্রমিক সংগঠন। অতীতে সংগঠনটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হলেও হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ধমিয়ে রাখা যায়নি। বর্তমানে সারাদেশের শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংগঠনটি আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করছে।
শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য দাবি, পাওনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কাজ করে যাবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।