বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে তা বিএনপির জন্য ভবিষ্যতে বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের একটির ফল বাস্তবায়ন করে অন্যটির রায় উপেক্ষা করা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর নিউ মার্কেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্স দক্ষিণ গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস খুলনা জেলা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস খুলনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দীন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী শরীফ সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান খুলনা জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ কাসেমী, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন খানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

মামুনুল হক বলেন, তার দাবি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ৫০ শতাংশের কিছু কম ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে গণভোটে হ্যাঁ র পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। একই নির্বাচন কমিশন, একই তফসিল ও একই দিনে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এক নির্বাচনের ফল বৈধ আর অন্যটির ফল অবৈধ বলা যায় না।

তিনি বলেন, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে একই নির্বাচনের ধানের শীষের বিজয়ও প্রশ্নের মুখে পড়ে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ অবৈধ হলে বিএনপি সরকারের বৈধতার প্রশ্নও এড়ানো যায় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে একমত হলেও নির্বাচনের পর অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তার ভাষ্য, ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা হলে তা জনগণের ভোটাধিকারের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা যায় এবং আদালতের রায়ে কোনো সংশোধনী বাতিলও হতে পারে। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে গৃহীত সংস্কার স্থায়ী পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে। তিনি বলেন, আমরা সংশোধন চাই না, আমরা সংস্কার চাই। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল কোনো পরিবর্তন নয়; স্থায়ীভাবে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করা।

বিএনপির উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে চলমান বিরোধের দ্রুত সমাধান করতে হবে। তা না হলে এ ইস্যু ভবিষ্যতে দলটির জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণার রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।