জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে শুরু হওয়া ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যকার সহিংসতা ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্র সংগঠন দুটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।

সকালে জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা কিছু দাবি নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গেলে ছাত্রদল তাদের ওপর হামলা করে। হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু)’র ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েক জন নেতা-কর্মী আহত হন। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা শিবির সদস্যদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়।

শিবিরের আহতদের চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও ছাত্রদল হামলা চালায়়। সংঘর্ষে জকসু (JnUCSU) ভিপি, জিএস এবং ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাসহ প্রায় ১৫ থেকে ৫০ জন আহত হন।

দুপুরের দিকে ঢাকা কলেজের গ্যালারি-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবির একটি আলোচনা সভার আয়োজন করছিল। এ সময় তাদের ওপর ছাত্রদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে নীলক্ষেত এলাকাসহ ক্যাম্পাসজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। ঢাকা কলেজের ঘটনায় শিবিরের অন্তত ২০ জন এবং ছাত্রদলের ৭ জন নেতাকর্মী আহত হন।

বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে। হলের সিট দখল ও পূর্ববর্তী সংঘর্ষের জের ধরে সকাল থেকেই সেখানে উত্তেজনা চলছিল। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসা এবং বকশীবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।