নানা জটিলতা ও দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা ২৪ শিক্ষকের মধ্যে ২৩ জনকে পদোন্নতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পদোন্নতি পাওয়া ২৩ শিক্ষক অধ্যাপক পদে যোগদান করেছেন। তবে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ড. আবদুল কাইয়ুম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তির কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে যায়। এতে শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকরা দীর্ঘ আন্দোলন, আমরণ অনশন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি কর্তৃক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জারি করা অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের সিদ্ধান্তে আন্দোলনরত শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই মাস ধরে চলা একাডেমিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে।
চলতি বছরের ২২ এপ্রিল থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে তৎকালীন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ ঘোষণা দেন তারা।
এর মধ্যে ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষকদের আন্দোলনের তীব্রতা কমতে শুরু করে। পরে ১০ জুন শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরেন।
অবশেষে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা ২৪ শিক্ষকের যাচাই-বাছাই শেষে ২৩ জনকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, ড. আবদুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা। তার বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তারা।
পদোন্নতি পাওয়া একাধিক শিক্ষক জানান, রোববার অধ্যাপক পদে যোগদানের সময় ২৩ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় ড. আবদুল কাইয়ুমকে দেখা যায়নি।
তবে ড. আবদুল কাইয়ুমকে পদোন্নতি না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।