জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৫টি, সংশোধিত প্রকল্প ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ৪টি।
প্রকল্পের অর্থায়ন:
অনুমোদিত এই ১৪টি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
মোট ব্যয়: ১৩,৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
সরকারি অর্থায়ন (GOB): ৮,০৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
বৈদেশিক ঋণ: ৫,৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন: ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রধান প্রকল্পসমূহ
আজকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫টি নতুন, ৫টি সংশোধিত এবং ৪টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
স্বাস্থ্যসেবা: শহরাঞ্চলের জনগণের জন্য ‘সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ প্রকল্প।
যোগাযোগ ও সেতু: * ময়মনসিংহ বিভাগে ৫টি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (২য় পর্যায়)।
বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ।
রেলপথ: পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং মধুখালী-মাগুরা ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (সংশোধিত)।
স্থানীয় সরকার: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প।
তদন্ত কমিটি গঠন
একটি বিশেষ নির্দেশনায়, সড়ক খাতের তিনটি প্রকল্প (বৈরাগীরপুল-বাউফল সড়ক, বরিশাল-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক এবং গোমা সেতু) বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এর কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্রষ্টব্য: আজকের সভায় ১৭টি প্রকল্প উত্থাপিত হলেও ৩টি প্রকল্প (সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণসহ) যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ১৪টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও নাগরিক সুবিধার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।