নিউইয়র্ক প্রতিনিধি এইচ এম আকতার :
বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরিস বলেছেন,কমিউনিটির যেকোনো সংকট, অধিকার ও আইনি সহায়তায় পাশে দাঁড়াবো। বাংলাদেশী-আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) সোশ্যাল সার্ভিসের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুনার এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা)-এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর প্রফেসর ড. রুহুল আমিন, আব্দুল্লাহ আল আরিফ, আহমদ আবু ওবায়দাহ ড, জাহাঙ্গীর কবিরসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
হাকিম জেফরিস বলেন, বাংলাদেশী-আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কমিউনিটির মানুষ কোনো ধরনের সংকটে পড়লে তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষ করে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশী-আমেরিকানদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের সময় তারা যাতে যথাযথ সহায়তা পান, সে বিষয়ে কাজ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কল্যাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে কংগ্রেসম্যান জেফরিস স্কুলগুলোতে হালাল খাদ্যের ব্যবস্থা করার বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুনা সোশ্যাল সার্ভিসের এ উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের হাতে একটি স্কুল ব্যাগ তুলে দেওয়া নয়, বরং তাদের শিক্ষাজীবনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগানোর একটি মানবিক প্রয়াস।
তারা বলেন, সমাজের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ানো সম্ভব। এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করবে।
মুনা সোশ্যাল সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের শিক্ষা, দরিদ্র পরিবারের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাদের কার্যক্রমের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরিস শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ তুলে দেন। ব্যাগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, নতুন স্কুল ব্যাগ পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে একজন কংগ্রেসম্যানের হাত থেকে ব্যাগ গ্রহণ করতে পেরে তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছে।
অভিভাবকরাও মুনা সোশ্যাল সার্ভিসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী, সচেতন ও মানবিক কমিউনিটি গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে ৬০০ স্কুল শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।