মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা একটি সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। একইসঙ্গে ফাজিল (অনার্স) পর্যায়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, অধিভুক্ত মাদরাসাসমূহের ফাজিল (অনার্স) শিক্ষা কার্যক্রমকে অধিকতর কর্মমুখী ও গবেষণাবান্ধব করার মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ফাজিল (অনার্স) স্তরের ১০৮টি মাদরাাসার অধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও মূল সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল কার্যকর পদক্ষেপ একসঙ্গে নিতে হবে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণ না করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয়, যা নিয়ে অধ্যক্ষদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এভাবে প্রকৃত আলেম তৈরি করা সম্ভব নয়। মানসম্মত আলেম তৈরিতে অধ্যক্ষগণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মাদরাসা শিক্ষার্থীরা অনেকেই আছেন যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য সৌদি আরব ও মিশরসহ বিশে^র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তে যেতে আগ্রহী; তারা যেনো এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সেভাবেই তাদের গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রমকে যুগোপযোগী ও আকর্ষণীয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলের ব্যবস্থা এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভর্তি ও শিক্ষার মান দুটোই বৃদ্ধি করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাদরাসাগুলোর সেশনজট কমাতে দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ বিতরণ কার্যক্রম তরান্বিত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দপ্তর নিয়মিতভাবে কাজ করছে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও পরিক্ষা রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বারবার বাড়াতে হয় যার ফলে পরীক্ষা গ্রহণে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ ক্ষেত্রে অধ্যক্ষগণের আরও সহযোগিতা চান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব ফাহাদ আহমদ মোমতাজী’র সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার জনাব এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী ও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো: জিয়াউর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অধিভুক্ত ফাজিল (অনার্স) স্তরের মাদরাসার অধ্যক্ষগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

পরে উপস্থিত অধ্যক্ষগণের হাতে ফাজিল ০৩ বছর মেয়াদী- ২০২০, কামিল ০২ বছর মেয়াদী- ২০২০, মাস্টার্স ০১ বছর মেয়াদী-২০২৩ ও ০৪ বছর মেয়াদী- ২০২৩ সালের অনার্সের মূল সনদ ও নম্বরপত্র বিতরণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।