ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সংবাদদাতা: ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে কেন্দ্রে রেখে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ও সুসংগঠিত প্রদর্শনী ‘Art of Faith Exhibition 2026’ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শাহবাগস্থ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টাশালী গ্যালারিতে শুরু হবে এই প্রদর্শনী । শিল্প, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সমকালীন সৃজনশীলতার অনন্য মেলবন্ধনে ইসলামিক কালচারাল অর্গানাইজেশন (ICO)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই ছয় দিনব্যাপী জাতীয় প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শিল্পে বিশ্বাসের সৌন্দর্য, বিশ্বাসে শিল্পের আলো’।
আগামীকাল ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং প্রথম দিন রাত ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা তা উপভোগ করতে পারবেন। পরবর্তী দিনগুলোতে (১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর) প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
দেশের শিল্প ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্যালিগ্রাফি ও সংশ্লিষ্ট শিল্পমাধ্যমের এত বিশাল সমাগমে দেশী-বিদেশী মিলিয়ে অংশ নিচ্ছেন দুই শতাধিক শিল্পী । এতে ইসলামী ক্যালিগ্রাফির প্রধান আকর্ষণের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে চিত্রকলা, রেজিন আর্ট, টেক্সচার আর্ট, মিশ্র মাধ্যম, ভাস্কর্য ও সিরামিক শিল্পকর্ম। ১২ জন বিশেষ গেস্ট আর্টিস্ট, ৩২ জন অর্গানাইজিং আর্টিস্ট ও ১৩২ জন পার্টিসিপেট আর্টিস্টের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিষ্ঠিত ও নবীন শিল্পীদের মিলনমেলা ঘটবে এই আয়োজনে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে ভারতের গুজরাট থেকে অংশ নিচ্ছেন ‘Culture to Art of India’-র ডিরেক্টর গৌরী ইউসুফ হুসেন এবং উদীয়মান শিশুশিল্পীদের উৎসাহিত করতে ২০ জন শিশুর ক্যালিগ্রাফি নিয়ে রাখা হয়েছে পৃথক ‘কিডস জোন’।
আয়োজন সূত্রে জানা গেছে, এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা মামুনুল হক, কবি মুহিব খান, মাওলানা ইয়াহিয়া ইউসুফ নদভী, শায়েখ মহিউদ্দিন ফারুকী, মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবেদিন, আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, ইয়াহিয়া আমিন, শায়খ মুফতি সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ দেশবরেণ্য আলেম, চিন্তাবিদ, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
ইসলামিক কালচারাল অর্গানাইজেশনের সভাপতি ইসমাইল হুসাইন জানান, বাংলাদেশে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে ঘিরে জাতীয়ভাবে এত বিশাল পরিসরে আয়োজন এটিই প্রথম। শিল্প মানুষের অন্তর্জগত ও বিশ্বাসের চিন্তার ভাষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পচর্চার সঙ্গে সমকালীন সৃজনশীলতার সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যেই তাঁদের এই প্রয়াস। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের দর্শনার্থী, শিল্পানুরাগী ও গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিশাল প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।