জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়ে বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি ড. মারুফ মল্লিকের একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও তথ্যবহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম (এনটিএফ)।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি টকশোতে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে ‘সাদা দলের’ শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোরামের দাবি, এ তথ্য বাস্তবতাবিবর্জিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাদা দল’ নামে শিক্ষকদের কোনো সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ই একমাত্র সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ফোরাম জানায়, অধ্যাপক কামরুল আহসান দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৪ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংগঠনের সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম থেকে মনোনীত হয়ে অধ্যাপক কামরুল আহসান ২০০৫ ও ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
টকশোতে উপাচার্যের অতীত সাংগঠনিক পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ফোরাম বলেছে, যথাযথ তথ্য যাচাই না করে তাকে ভিন্ন একটি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে উপস্থাপন করা দুঃখজনক। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা ও যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা জরুরি।
বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম সংশ্লিষ্ট সবাইকে বক্তব্য দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গণমাধ্যম ও টকশোতে আলোচনা করার সময় ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপনের প্রত্যাশা জানিয়েছে সংগঠনটি।