বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আলোচনায় আসা এবং পরে কারাগারে যাওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর সেই আলোচিত ১০ হাজার টাকার বিল নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে সিফাতদের বাড়ির তিনটি আবাসিক মিটারের সম্মিলিত বিল ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। ফলে দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল আসার বিষয়ে সিফাতের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে অঙ্কের বড় ধরনের অমিল নেই। তবে এটি কোনো একটি মিটারের বিল নয়।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুতের বোর্ডবাজার শাখার ডিজিএম মো. আহসান কোভিদ জানান, গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকায় সিফাতদের দোতলা বাড়িতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসের হিসাব পর্যালোচনা করা হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে তিন মিটারে বিল এসেছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৮২, ৩ হাজার ৫৯৪ ও ১ হাজার ৬৩৩ টাকা। আগস্টে এসেছে ৫১৩, ২ হাজার ৩৯৭ ও ১ হাজার ৩৬২ টাকা। দুই মাসে তিন মিটারের মোট বিল দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।

Sifat’s Tk 10,000 Bill Is Genuine2

অন্যদিকে মে থেকে আগস্ট—চার মাসে তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্তে মিটার রিডিং ও বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, বাড়িটিতে একাধিক পরিবার বসবাস করে। ফলে তিনটি মিটারের বিল একসঙ্গে হিসাব করলে যে অঙ্ক দাঁড়ায়, সেটিই সিফাত তার বক্তব্যে প্রায় ১০ হাজার টাকা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তার ভিডিওতে বিলের তিনটি মিটারের সম্মিলিত হিসাব স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান দাবি করেছেন, সিফাতের কাছে থাকা গ্রাহক কপি ও পল্লী বিদ্যুতের হিসাব পর্যালোচনা করলে জুলাই-আগস্টের বিলের অঙ্কে মিল পাওয়া যায়। চার মাসের হিসাব সামনে এনে মূল বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্তে বিলের অঙ্কে অনিয়ম না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় সিফাতের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকার বিলের দাবি অঙ্কের দিক থেকে মিলে গেলেও সেটি একটি মিটারের নয়—একই বাড়ির তিনটি মিটারের দুই মাসের সম্মিলিত বিল।

এদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারসংশ্লিষ্টদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিফাতকে আটক করা হয়। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিফাতের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এনসিপি তাকে নিজেদের কর্মী দাবি করে মুক্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিলের হিসাবের পাশাপাশি সিফাতের গ্রেপ্তারের আইনগত ভিত্তি নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাইলকৈর টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা এবং রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।