পরীক্ষা পরিচালনা, ফল প্রকাশ এবং শিক্ষাসেবা আধুনিকায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন গতিশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। বর্তমান প্রশাসনের ধারাবাহিক সংস্কার, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পরীক্ষার ফল প্রকাশে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রেকর্ড। এরই ধারাবাহিকতায় ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স দ্বিতীয় বর্ষ (২০২৪) পরীক্ষার ফল মাত্র ৪২ কর্মদিবস (ছুটিসহ ৫৩ দিন) শেষে প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম ফল প্রকাশের নজির।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীবান্ধব, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর ইতিবাচক প্রভাব এখন পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাতেও স্পষ্ট। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, দ্রুত খাতা মূল্যায়ন, তথ্য যাচাই ও ফল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফল প্রকাশ সম্ভব হয়েছে।

গত ২০ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৮ মে ২০২৬ শেষ হওয়া ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের ১ হাজার ৯১৫টি কলেজের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ জন শিক্ষার্থী ৬৪৭টি কেন্দ্রে অংশ নেয়। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১১ দিনের সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে ১১ জুলাই ২০২৬ ফল প্রকাশ করে। এ পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, দ্রুত ফল প্রকাশ তারই বাস্তব প্রতিফলন। স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রেখে মাত্র ৪২ কর্মদিবসে ফল প্রকাশ প্রশাসনের দক্ষতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রমাণ। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর ও সময়োপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম বলেন, পরীক্ষা-পরবর্তী প্রতিটি ধাপ পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও খাতা মূল্যায়ন, নম্বর সংযোজন, তথ্য যাচাই এবং ফল প্রস্তুতের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় স্বল্প সময়েই ফল প্রকাশ সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কম সময়ে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

দ্রুত ফল প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, আগে ফলাফলের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন দ্রুত ফল প্রকাশ হওয়ায় পরবর্তী বর্ষের প্রস্তুতি ও একাডেমিক পরিকল্পনা সহজ হয়েছে। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আবিদ ইসলাম বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পরও এত দ্রুত ফল প্রকাশ হবে, তা কল্পনাও করিনি। এতে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির প্রস্তুতিতে সময় নষ্ট হয়নি।

শিক্ষাবিদদের মতে, একসময় দীর্ঘ সেশনজট ও ফল প্রকাশে বিলম্বের জন্য সমালোচিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাত্র ৪২ কর্মদিবসে ফল প্রকাশ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক এবং অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।