গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রযাত্রায় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে তথ্যনির্ভর ও একাডেমিক আলোচনা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া পরিষদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পেশাদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামো নয়; এটি নিজস্ব আইন, বিধি-বিধান, একাডেমিক মূল্যবোধ ও প্রশাসনিক পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য তাঁদের ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নে বিএনপির অবদান নিয়ে শক্তিশালী, তথ্যনির্ভর ও একাডেমিক ডিসকোর্স তৈরি করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু দলীয় আবেগের জায়গা থেকে নয়, গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একইভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর সততা, সাধারণ জীবনযাপন ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়েও গবেষণা ও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন সংকটময় সময়ে তাঁর ‘অটল ও আপসহীন’ ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা নিয়েও গবেষণা ও বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে ড. আমানুল্লাহ বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষ প্রশাসন একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্য ভিত্তি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়মনীতি অনুসরণ, যোগ্যতার মূল্যায়ন ও দায়িত্বশীলতার চর্চার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করা, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য জোরদার করা বিএনপির রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, দেশের অগ্রযাত্রার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস, গণতন্ত্র ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার; এখানে কোনো ধরনের বিভাজন থাকা উচিত নয়।

সভায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য, দলটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রযাত্রায় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এবং জিয়া পরিষদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।