ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের নেতাকে চড় মারার ঘটনা এবং বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া কাণ্ডে অভিযুক্ত সেই ছাত্রদল কর্মী আলীনুর রহমানকে নিয়ে আবারও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার সেমিস্টার পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে গিয়ে শিক্ষকের হাতে ধরা পড়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী।
বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টার সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) অনুষ্ঠিত ২৪০৯ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন করতে গিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মফিজুল ইসলামের হাতে নকলসহ ধরা পড়েন আলীনূর। শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে তার খাতাটি বাজেয়াপ্ত করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালামের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত আলীনুর বিভাগীয় সভাপতির কাছে খাতা ফেরত চাইলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার না করেই কেবল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, নকল বা অসদুপায়ের বিষয়ে তাদের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, “আমি গতকাল সকালে তাদেরকে পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দিয়ে এসেছি এবং খুবই সতর্ক বার্তা দিয়েছি যে কোনো রকম অসদুপায় অবলম্বন করলে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে। শনিবারে ক্যাম্পাস খুলুক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলীনুর বলেন, “আমি কিছু নিয়ে যাইনি।আমার বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে লিখতেছিলাম। মফিজুল স্যার আমার কাছ থেকে খাতা নিয়ে নেয়। পরে চেয়ারম্যান স্যার আমাকে বের হয়ে যেতে বলে।”
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়ে সিট বরাদ্দ ছাড়াই হলে অবৈধভাবে অবস্থানের পর এবার পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠে এলো এই ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে। এর আগে গত শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশমুখে ক্র্যাচে ভর করে যাওয়ার সময় শাখা শিবিরের হল সেক্রেটারি ও শিক্ষাবর্ষে সিনিয়র কাজী জুহায়েরকে ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে আচমকা থাপ্পড় মারেন এই জুনিয়র শিক্ষার্থী আলীনূর। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া ও ব্যাপক সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।