কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধানের গোলা, গোয়ালঘর ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তায় ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সারের সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া এবং রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ির মাচা ও ধানের গোলা তল্লাশি করে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।

অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে অবৈধ সার মজুতের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলেই নগদ আদায় করা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কেউ যাতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখছে।

এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সহজে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।