কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ১৪ বছরের এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মো. একরাম মোল্লা (৭৪) নামের এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এইচ এম শফিকুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. আব্দুল মজিদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত একরাম মোল্লা ভেড়ামারা উপজেলার গোসাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে একরাম মোল্লার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ১৪ বছরের ওই মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন একরাম মোল্লা। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরী বাড়িতে গিয়ে তার মার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনা শোনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় অভিযুক্ত একরাম মোল্লার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর ভেড়ামারা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের বিষয়ে পিপি মো. আব্দুল মজিদ জানান, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও ছয় মাস কারাবাস করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।